সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের ‘পদ্মশ্রী’ প্রত্যাখ্যান, শোরগোল সামাজিক মাধ্যমে

আমাদের ভারত, ২৫ জানুয়ারি: ‘পদ্মশ্রী’ প্রত্যাখ্যান করলেন প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার রাত সওয়া আটটা নাগাদ সাংবাদিক শর্মিষ্ঠা গোস্বামী চৌধুরী এই প্রত্যাখ্যানের খবরটি ফেসবুকে এক লাইন পোস্ট করেন। সঙ্গে সঙ্গে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্ত কারণ জানতে চান। শর্মিষ্ঠা ফেসবুকে জানান, শেষ মুহূর্তে কোনোরকমে দিল্লি থেকে এক আমলা ফোন করে বলেন, পদ্মশ্রী নেওয়ার কথা। ২৬ জানুয়ারি ঘোষণা। এভাবে প্রস্তাব পেয়ে অপমানিত সন্ধ্যাদি ফিরিয়ে দেন।

এর পর শুরু হয় প্রতিক্রিয়া। কুণাল শীল লেখেন, “এটা করা হলে ভুল। তবে, আরও আগে ওনার এটা পাওয়া উচিত ছিল।” পাভলব মুখার্জি লেখেন, “খুব বড় ভুল করলেন। এরকম সম্মান আগে উনি পাননি।” বন্ধু মাধবী রায় লেখেন, “ঠিক করেছেন”। সোমিয়া দত্ত চৌধুরী লেখেন, “একদম ঠিক করেছেন”। টুবুল ব্যানার্জি জানান, “ভুল করলেন। ৭০ বছর কেউ দিল না সেটা সেই সরকারের দোষ। প্রধানমন্ত্রী মোদী চেষ্টা করছেন সেই পুরোনো ভুলকে ঠিক করার।”

দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ফোন। সচরাচর ফোন ধরেন না গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। ওই ফোনে হিন্দিতে তাঁকে জানানো হয়, তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হবে। তিনি কি এই সম্মান নেবেন?

পরে প্রবীন শিল্পী প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এ ভাবে কেউ পদ্মশ্রী দেয়? এরা জানে না আমি কে! নব্বই বছরে আমায় শেষে পদ্মশ্রী নিতে হবে? আর এই ফোন করে বললেই চলে যাব আমি? শিল্পীদের কোনও সম্মান নেই আর।”

সন্ধ্যার কণ্ঠে হতাশা আর অপমানের বেদনা। দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট সচিবালয়ের উদ্দেশে তিনি হিন্দিতেই তাঁর বক্তব্য জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি বলে দিয়েছি, আমার পদ্মশ্রীর কোনও দরকার নেই। শ্রোতারাই আমার সব।” আচমকা এই পদ্মশ্রী খেতাবের ফোনে তিনি যে অপমানিত বোধ করেছেন, তাঁর কণ্ঠই তা জানিয়ে দিচ্ছিল। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক বাংলা গানে তাঁর সুরের বিস্তার আর যাই হোক পদ্মশ্রীর আশা যে করে না তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন এই নিরহঙ্কারী শিল্পী।

১৯৭১ সালে ‘জয় জয়ন্তী’ এবং ‘নিশিপদ্ম’ ছবিতে গান গেয়ে শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন সন্ধ্যা। এ ছাড়া ২০১১ সালে রাজ্য সরকার তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ উপাধিতে সম্মানিত করে।

দ্রুত বেড়ে চলেছে ফেসবুকে তাঁর পুরষ্কার প্রত্যাখ্যানের পোস্টের প্রতিক্রিয়া আর শেয়ারের সংখ্যা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *