রাজেন রায়, কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর: ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী একমাত্র শক্তি যে সর্বভারতীয় স্তরে তৃণমূল হতে পারে, তার জন্য জোরদার প্রচার চলছে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই। এর আগেও রাহুল গান্ধীর বদলে মমতাকে বিকল্প বলে তুলে ধরা হয়েছিল তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলায়। ফের সাম্প্রতিক সংস্করণে তৃণমূলকে সমুদ্র এবং কংগ্রেসকে পচা ডোবা বলে উল্লেখ করা হল। স্বাভাবিকভাবেই এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, সর্বভারতীয় স্তরে যদি জোট করতে হয় তাহলে তার রাশ থাকবে তৃণমূলের হাতেই। শনিবাসরীয় জাগো বাংলার সম্পাদকীয়তে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে রাখল তৃণমূল। যেখানে কংগ্রেসকে আত্মসমালোচনা করার কথা বলা হয়েছে, সেই সঙ্গে মমতা-রাজীব সুসম্পর্কের কথাও সেখানে জায়গা পেয়েছে। ‘আসল কংগ্রেস’ শীর্ষক এই সম্পাদকীয়র ছত্রে ছত্রে তৃণমূল বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে, জাতীয় স্তরে যে ভূমিকা এই মুহূর্তে কংগ্রেসের নেওয়ার কথা, তা আসলে তৃণমূলই নিয়েছে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার সঙ্গে গত দশকের শেষ সময়ের তুলনা টানা হয়েছে এ দিনের সম্পাদকীয়তে। যে সময় কংগ্রেস ভেঙে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন, সেই সময়ের কথা মনে করানোর চেষ্টা হয়েছে। সেই সময় যেভাবে প্রদেশ কংগ্রেস সিপিএমের সঙ্গে লড়ে উঠতে পারেনি, আজ একই ভাবে জাতীয় কংগ্রেসও দিল্লিতে বিজেপির সঙ্গে মোকাবিলা করে উঠতে পারছে না। তাই বিরোধিতার যে শূন্যস্থান কংগ্রেস তৈরি করেছে, সেটা ভরাট করে তৃণমূলই কংগ্রেস সমর্থকদের জন্য ‘আসল কংগ্রেস’ হয়ে উঠেছে। উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কংগ্রেস নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে’। তাই কংগ্রেস যদি ‘আত্মবিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে নিজেদের সমস্যা’ উপলব্ধি না করতে পারে, তবে ২০২৪ সালেও ১৯ এবং ১৪ সালের পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা যে পুরোদস্তুর, সেটা তাদের বুঝে যাওয়া উচিৎ, এমনটাই দাবি তৃণমূলের।

