পার্থ খাঁড়া, ডেবরা, ২ নভেম্বর: হিন্দু, মুসলিম একে অপরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ডেবরাচকে জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করেন। উদয়ন সঙ্ঘের পরিচালনায় ডেবরা বাজার সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজোর নাম দেওয়া হয়েছে মানবতার মিলনোৎসব।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই পুজো নজর কাড়ে সকলের। এবার এই পুজোর উদ্বোধন করেন ঘাটাল লোকসভার সাংসদ তথা অভিনেতা দেব। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা। ক্লাবের সভাপতি সীতেশ ধাড়া বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে পুজোর উদ্বোধন হয়। এবার মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। মায়ের সাবেকি মূর্তিই পূজিত হচ্ছে। কাচের গয়না দিয়ে সাজানো হয়েছে মা’কে। এবার এই পুজো সাত বছরে পড়ল। বাজেট প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

সীতেশবাবু ছাড়াও পুজোর সঙ্গে যুক্ত আছেন সম্পাদক অশোক রায়, সহ সভাপতি আনোয়ার আলি, মমতাজ আলি সহ অনেকে। ক্লাবের চেয়ারম্যান ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সাত বছর আগে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির হিসেবে এই পুজো শুরু করা হয়। আমরা হিন্দু, মুসলিম একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পুজো করি। জাতপাত এখানে কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আমরাও ওদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিই। এভাবেই আমরা ডেবরায় দুই সম্প্রদায়ের মিলন উৎসবকে এগিয়ে নিয়ে চলেছি। পুজো ছাড়াও নানা সামাজিক কাজের সঙ্গে আমাদের ক্লাব যুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারে আমরা সহযোগী হই। করোনার সময় আমরা নানাভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। মাস্ক ও স্যানিটাইজার ছাড়াও রান্না করা খাবার বিলি করা হয়। সেই সময় মানুষকে সচেতন করার কাজও করি আমরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও আমাদের ক্লাব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। এছাড়াও প্রতি বছর একটা সময় পথশিশুদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ক্লাবের সদস্যরা বলেন, এবছর পুজোয় ২৫০ জন দুঃস্থকে চশমা দেওয়া হবে। চক্ষুপরীক্ষা করে তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছিল। এছাড়া বস্ত্রদান কর্মসূচিও রয়েছে। একদিন অঙ্কন প্রতিযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তো থাকছেই। এলাকার মানুষকে অন্নভোগ বিতরণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

