আমাদের ভারত, ২৪ ফেব্রুয়ারি: এতদিন ধরে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তা বাস্তবায়িত হলো। সকাল ছয়টায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। ইউক্রেনে মিলিটারি অপারেশন চালাবে রাশিয়া বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। ইউক্রেন–রাশিয়ার সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল চিন্তিত। বিশেষজ্ঞদের মতে দীর্ঘদিনের ঠান্ডা লড়াইয়ের পর রাশিয়া–ইউক্রেনের সংঘাত আজ বিশ্বের কাছে সবচেয়ে বড় সংকট। দু’দেশের এই যুদ্ধের প্রভাব আমজনতার দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ভারতও বাদ পড়বে না। টান পড়তে পারে ভারতীয় মধ্যবিত্তদের ভাড়ারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আজ সকালেই সেনসেক্স ১৪০০+ পয়েন্ট এবং নিফটি ৪০০+ পয়েন্ট নেমেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়বে। দাম বাড়তে পারে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে গম, ধাতু সহ বিভিন্ন সামগ্রীর। ইতিমধ্যেই এই সংঘাতের ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রতি বেরোলে ৯৬.৭ ডলার। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এটাই সর্বোচ্চ দাম বলে জানা গেছে। রাশিয়া অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় উৎপাদক। তাই এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার হতে পারে বলেও অনুমান বিশেষজ্ঞদের।
অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্বের জিডিপিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন। এমনকি ব্যারল প্রতি তেলের দাম হতে পারে প্রায় ১৫০ ডলার। আর অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতেও পেট্রোপণ্যের দামে প্রভাব পড়বে। দাম বাড়বে এলপিজি ও কেরোসিনেরও।
গত এক বছর ধরে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে নাস্তানাবুদ ভারতের আমজনতা। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আবারও পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। অতীতেও দেখা গেছে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় পেট্রোপণ্যের দাম বেড়েছে।। ২০২১-এ জ্বালানির রেকর্ড দাম বৃদ্ধি হতে দেখা গেছে। আর ইউক্রেন–রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও সেই দাম বৃদ্ধি থেকে কোনওভাবেই রেহাই দেবে না ভারতীয়দের। প্রয়োজনীয় তেলের ৮০ শতাংশই ভারত আমদানি করে, ফলে স্বভাবতই দাম বাড়বে পেট্রোল-ডিজেলের। যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ওপর।
অন্যদিকে, খাদ্যশস্য গমের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৃষ্ণসাগর থেকে শস্যের সরবরাহ বন্ধ হলে খাদ্যশস্যের দাম তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বাড়বে। গম রপ্তানিকারকদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। সেখানে ইউক্রেন চতুর্থ স্থানে। বিশ্বে গমের রপ্তানির ক্ষেত্রে চারভাগের একভাগ গম রপ্তানি হয় দুই দেশ থেকে। ফলে, এক্ষেত্রে একটা বড়সড় আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

