আমাদের ভারত, ২৪ ফেব্রুয়ারি: ১০৮টি পুরসভার ভোট কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে করানোর দাবি তুলেছে রাজ্য বিজেপি। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন নাকচ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। এই রায়কেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি। শীর্ষ আদালতে এই নিয়ে মামলাও দায়ের হয়েছে। আগামীকাল শুনানি হবে।
বিজেপি তরফে বলা হয়েছে, বিধাননগরের ক্ষেত্রেও হাইকোর্ট কমিশনের ওপর সবটা ছেড়েছিল। কিন্তু মুড়ি-মুড়কির মতো ভোট লুট হয়েছে। সেখানে বুথের পর বুথে ছাপ্পা চলেছে। ভোটের ফল থেকে স্পষ্ট কি পরিমানে ছাপ্পা হয়েছে। তারপরেও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানো বা না করানোর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কমিশনের উপর। বিজেপির দাবি, এরপর সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বলে আর কিছুই পড়ে থাকবে না। বিজেপির বক্তব্য, রাজ্য নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের চাটুকারিতা করছে।
পুরনির্বাচন উপলক্ষে বিরোধীদের বারবার আবেদন সত্বেও রাজ্য পুলিশকেই বেছে নিয়েছে কমিশন। তারপরেও রাজ্যে পুরোভোটে অশান্তি, অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৪ পুরনিগমের ভোটে অস্বচ্ছতার অভিযোগ করেছিল বিজেপি সহ সব বিরোধীরাই। তবুও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে বলে দাবি করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ফলে পুরভোটে অশান্তির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে সরব হয় বিজেপি। কাঁথি ও ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থীর নিরাপত্তা নেই বলে আদালতে মামলা করেছে। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বাচন করানো হবে কিনা তা সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। তবে আদালত এও বলেছে যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোট করালে যদি কোনো অশান্তি হয় তার দায় বর্তাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওপরেই।
এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। জরুরী ভিত্তিতে আবেদনের শুনানিতে সাড়া দিয়ে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রমন্নার নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। শুক্রবার সকালেই মামলার শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।।

