আমাদের ভারত, ১৩ অক্টোবর:
ফের বাংলা নিয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। বাংলা সম্পর্কে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দেওয়া রিপোর্টের একটি বাক্য তুলে ধরেন তিনি বলেন, “আমি যখন বাংলার রাজ্যপাল ছিলাম, তখন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রিপোর্ট দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল বাংলায় আইনের শাসন চলে না। শাসকের আইন চলে।”
মোমিনপুরের ঘটনার পর উপরাষ্ট্রপতির জগদীপ ধনখড় ফের সেই রিপোর্টের উল্লেখ করায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাজধানী দিল্লিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফ থেকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বাংলার রাজ্যপাল থাকাকালীন সময়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে আইনের শাসনের উপরে শাসকের আইনের কথা উল্লেখ তিনি আজও ভোলেননি বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে সেই সময় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের ভূয়শী প্রশংসা শোনা গেছে ধনখড়ের মুখে।
যদিও তৃণমূল শিবির থেকে পাল্টা প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উপরাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি কিভাবে দেশের একটি রাজ্য নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন?
সেই রিপোর্টে স্মৃতিচারণ করে বাংলার তৎকালীন রাজ্যপাল বলেন, “আমি তিনবছর বাংলা রাজ্যপাল ছিলাম। তখন বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার কমিশন রিপোর্ট জমা দেয়। রিপোর্টের প্রথম বাক্যটা আমি কোনওদিনও ভুলব না। বাংলায় আইনের শাসন নয় শাসকের আইন চলছে।” বাংলা তৎকালীন রাজ্যপাল তথা বর্তমান উপরাষ্ট্রপতির এদিনের কথা রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলছ মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের সাম্প্রতিকতম পরিস্থিতিতে মোমিনপুর কাণ্ড নিয়ে খোঁচা দিতেই এই মন্তব্য করেছেন তিনি বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যের রাজ্যপাল থাকাকালীন জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস তথা রাজ্য সরকারের সম্পর্ক মোটেই ভাল ছিল না। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজ্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছিলেন তিনি । কখনও টুইট করে বা কখনও চিঠি পাঠিয়ে নবান্নের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে ছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল। উপরাষ্ট্রপতি পদে বসার পর সেই বিবাদে কিছুটা হলেও ধামা চাপা পড়েছিল। কিন্তু আজ ফের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের সেই কথা উল্লেখ করে পুরনো বিতর্ককে ফের উস্কে দিয়েছেন তিনি বলে মনে করা হচ্ছে।

