মেদিনীপুরের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী হায়দার আলি প্রয়াত

আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ১০ ডিসেম্বর: মেদিনীপুর শহরের জন্য আরও একটা দুঃখের খবর। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ কলকাতার সিএমআরআই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হলেন মেদিনীপুরের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হায়দার আলী। থেমে গেল চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা চব্বিশ দিনের লড়াই। গত ১৭ নভেম্বর মেদিনীপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে টেষ্টে কোভিড পজিটিভ হওয়ায় তাঁকে সেদিনই কলকাতার
সিএমআরআই হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর পরিবার পরিজন ও বন্ধুবান্ধবরা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। জনপ্রিয় এই সঙ্গীত শিল্পীর বাড়ি শহরের নিমতলা চক এলাকায়। ওখানে উনাদের পারিবারিক ব্যবস্যাও রয়েছে।

হায়দার আলী কলেজ জীবনে কেডি কলেজ অব কমার্সের ছাত্র ছিলেন। মেদিনীপুরের প্রবাদ প্রতিম সঙ্গীত গুরু জয়ন্ত সাহার অন্যতম কৃতি ও প্রিয় ছাত্র ছিলেন হায়দারবাবু। ছিলেন মেদিনীপুরের সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম পীঠস্থান রবীন্দ্র স্মৃতি সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক। প্রতিবছর জয়ন্ত সাহাদের প্রতিষ্ঠান স্বরলিপির বার্ষিক অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতো হায়দারবাবুর। রবীন্দ্র নিলয়ে রবীন্দ্র স্মৃতি সমিতি আয়োজিত যে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতেন হায়দারবাবু। মেদিনীপুর শহরের বেশিরভাগ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরের শিল্পীদের সঙ্গে যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক ছিল। রবীন্দ্র সঙ্গীতের পাশাপাশি আধুনিক গান এবং গজল বেশ দক্ষতার সঙ্গে গাইতেন। প্রতি বছর তাঁর উদ্যোগে জগজিৎ সিং স্মরণে গজলের আসর বসতো রবীন্দ্র নিলয়ে। রবীন্দ্র নিলয়ের পাঁচিলে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের শ্লেটের প্রতিকৃতি স্থাপনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ফোন কল আর সোস্যাল মিডিয়ায় তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে মেদিনীপুরজুড়ে। শোকে কাতর হয়ে পড়েন তাঁর অনুরাগী এবং সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষরা। বিভিন্ন ভাবে নিজ নিজ ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করে শোক জ্ঞাপন করেন বহু মানুষ। হায়দারবাবুর প্রয়াণে বাকরুদ্ধ তাঁর পিতৃতুল্য সঙ্গীত গুরু জয়ন্ত সাহা ও জয়ন্তবাবুর স্ত্রী শ্যামলী সাহা।

রবীন্দ্র স্মৃতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক তথা হায়দার আলির ঘনিষ্ঠ বন্ধু লক্ষণচন্দ্র ওঝা বলেন, হায়দারের প্রয়াণে গোটা রবীন্দ্র স্মৃতি সমিতি, বিশেষ করে রবীন্দ্র স্মৃতি সমিতির সাংস্কৃতিক বিভাগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *