গাড়ির ধাক্কায় মারা গেল অতিবিরল লেপার্ড ক্যাট, উধাও দেহ, নামলো বনদপ্তরের ৩ গোয়েন্দা কুকুর

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ১০ ডিসেম্বর: কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিনত হওয়া জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান লাগোয়া ৪৮নম্বর এশিয়ান হাইওয়েতে বৃহস্পতিবার সাতসকালে হলং বাজারের কাছে এবার গাড়ির ধাক্কায় মারা পড়লো অতিবিরল প্রজাতির পূর্নবয়স্ক একটি লেপার্ড ক্যাট। বাংলায় যাকে বনবিড়াল বলে ডাকা হয়। তবে এদিন আশ্চর্যজনকভাবে বনবিড়ালটি মারা গেলেও ঘটনার অল্প কিছু সময়ের মধ্যে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই মৃত বন্যপ্রাণীর দেহটি সড়ক থেকে উধাও হয়ে যায়। আর তাতেই তোলপাড় শুরু হয় বনদফতরে।

উল্লেখ্য, আগেও দ্রুত গতির গাড়ির ধাক্কায় বেশ কয়েকটি হরিণ, বাইসন, লেপার্ডের যেমন মৃত্যু হয়েছে তেমনি আহত হয়েছে বিশালকায় হাতিও। এবার তাতে সিডিউল-১ তালিকায় থাকা বন্যপ্রানীটির নাম সংযোজন হল। মনে করা হচ্ছে সাত সকালে কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকার জন্য গাড়ির চালক ঠিকমতো দেখতে পায়নি প্রাণীটিকে। তবে রাস্তা থেকে মৃত বন্যপ্রানীটির দেহ উধাও হয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকা জুড়ে।

মৃতদেহটির খোঁজ পেতে একসাথে তিনটি ট্রাকার ডগ নামানো হয় ঘটনাস্থলে। আশপাশের সবকটি গ্রাম-বনবস্তি এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করে বনকর্মীরা। যদিও বিকেল ৫টা অবদি খবর দেহটি উদ্ধার করা যায়নি। উত্তরবঙ্গের প্রধান মুখ্য বনপাল রাজেন্দ্র জাখর বলেন, ”লেপার্ড ক্যাট সিডিউল-১ পর্যায়ের বন্যপ্রাণী, অতিবিরল।এমন একটি বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হলে তার দেহের ময়নাতদন্ত করা বাধ্যতামূলক। সেজন্য দেহটির খোঁজ চলছে। যদি এলাকার কারোর কাছ থেকে দেহটি উদ্ধার হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

জানা গেছে, পথচলতি মানুষ মৃত লেপার্ডটির কিছু ছবিও তুলে ফেলে। একঘন্টার মধ্যেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায় সোস্যাল মিডিয়ায়। দ্রুত জলদাপাড়ার বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন।ভতবে বন্যপ্রাণিটির মৃতদেহ আর দেখতে পাননি বলে দাবি বনদপ্তরের। তবে রাস্তার মাঝে ছিল চাপচাপ রক্তের ছাপ। এরপর নামানো হয় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের দুই জার্মান শেফার্ড গোয়েন্দা কুকুর রাণী আর ট্রফিকে। সঙ্গে তল্লাশি শুরু করেন একদল বনকর্মী। দুপুর একটা পর্যন্ত লেপার্ড ক্যাটের খোঁজ মেলেনি। এরপরে ডাক পরে বনদফতরের সবথেকে বিশ্বস্ত দেশের এক নম্বর প্রশিক্ষিত গোয়েন্দা কুকুর বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের করিমের। হলং বস্তির বেশ কয়েকটি বাড়িতে বারকয়েক গন্ধ শুঁকে ঢুকেও পরে ওই তিন গোয়েন্দা কুকুর। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাংস ও চামড়ার লোভে দেহটি গায়েব করে দেওয়া হতে পারে। আবার জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়া কোনও গাড়িও তুলে নিয়ে যেতে পারে মৃত বন্যপ্রানীটির দেহ।বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানান, উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে হাতে গোনা লেপার্ড ক্যাটের অস্তিত্ব রয়েছে। এইভাবে মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ করুক, জলদাপাড়া, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, চিলাপাতা, গরুমারার মত এলাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *