স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৭ এপ্রিল: হাঁসখালি কাণ্ডে এই প্রথম সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হল এক অভিযুক্ত। ধৃত ঐ অভিযুক্তের নাম রঞ্জিত মল্লিক (লাদেন)। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পরিবার সহ পলাতক ছিল। পুলিশের হাতে ধরা না পড়লেও অবশেষে সিবিআইয়ের হাতে ধরা পড়লো আরেক অভিযুক্ত।

হাঁসখালি কাণ্ডে বুধবার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর গভীর রাতে হাঁসখালি থানায় উপস্থিত হয় সিবিআইয়ের তদন্তকারী দল। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার ছেলে ব্রজগোপাল গয়ালি ও প্রভাকর পোদ্দারকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এর পরে সিবিআই আরেক অভিযুক্ত রঙ্গিত মল্লিককে শনিবার রাতে রানাঘাট থানার ধানমাঠ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এর পর সিবিআই অভিযুক্তকে তাদের কৃষ্ণনগরের অস্থায়ী ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
যদিও এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার ছেলেকে গ্রেফতার করে হাঁসখালি থানার পুলিশ। এমনকি তাঁর এক বন্ধুকেও গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত রঞ্জিত মল্লিককে এবার ধরলো সিবিআই। ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত রঞ্জিত মল্লিক উপস্থিত ছিল বলে সিবিআই সূত্রে খবর।

উল্লেখ্য, ধৃত মূল অভিযুক্ত ব্রজ গোয়ালিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রভাকর পোদ্দারের নাম জানতে পারে পুলিশ। এর পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার এই প্রভাকর পোদ্দারের বাড়ি যায় সিবিআই। সেখানে গিয়ে জামা-প্যান্ট ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে। এছাড়াও অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে জামা-কাপড় মোবাইল সহ বেশকিছু ব্যবহৃত জিনিস বাজেয়াপ্ত করে তদন্তকারী দল। ঐ দিনই শ্মশানে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে সিএসএফএল। বর্তমানে শ্মশানটিকে ঘিরে রাখে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্ত শেষ না হলে ঐ শ্মশানে কোনো মৃতদেহ দাহ করা যাবে না বলে নোটিস ঝোলানো হয় সিবিআইয়ের তরফ থেকে। এরপর ঐ দিনই সিএফএসএলের একটি দল মূল অভিযুক্ত ব্রজ গোয়ালির বাড়িতে হানা দেয়। এদিন সেখানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ভিডিওগ্রাফি করা হয়। সিবিআই দল দুটি দলে বিভক্ত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানাগেছে। মূল অভিযুক্তের বাড়ি থেকে বেশ কিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। পাশাপাশি কিছু মদের বোতলও বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারীরা।
সিবিআই সুত্রের খবর, ঐ দিন রাতে অভিযুক্তরা মদ্যপান করেছিল। এই বোতলগুলি ঐ দিনকার রাতের বলে অনুমান তদন্তকারী দলের। এছাড়াও ফরেন্সিক দলের আধিকারিকরা আরও বেশকিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে বলে জানাগেছে। এছাড়াও গতকাল সিবিআইয়ের একটি দল মৃতার বাবা-মা ও আরও কয়েক জনের বয়ান ভিডিও রেকডিং করেন বলে সিবিআই সুত্রের খবর। সিবিআই সূত্রে খবর তারা ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

