কোভিড আক্রান্তদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে পুরুলিয়ার ‘শক্তি সংঘ’ ক্লাব

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২১ মে: কোভিড আক্রান্তদের বাড়িতে দুবেলা খাবার পৌঁছে দিচ্ছে পুরুলিয়া শহরের ‘শক্তি সংঘ’ ক্লাব। আক্রান্তদের থেকে ফোন পেলেই নথিভুক্ত হয়ে যাচ্ছে ঠিকানা, পরিবারের সংখ্যা ইত্যাদি। আর দুপুরের এবং রাতের খাবার চাহিদা অনুযায়ী আমিষ ও নিরামিষ থালি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কোভিড পরিস্থিতিতে এর আগেও নিজেদের জনসেবা ও রাস্তার অবলা জীবদের তৃষ্ণা মেটাতে জল পানের ব্যবস্থা করেছিল এই প্রতিষ্ঠান। এই স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটি গত বছর লকডাউনের প্রথম থেকেই অসহায় দুঃস্থ মানুষের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিস তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছিল।  বিভিন্ন বস্তি, মহল্লা ছাড়াও হাসপাতাল চত্বরে থাকা রোগীর পরিজনদের দুপুরের খাবার দিয়েছিল তারা।করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পুরুলিয়ায় পৌঁছতেই স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসনের পাশে দাঁড়ায় ওই ক্লাব। টিকাকরণের জন্য নিজেদের মেডিক্যাল ইউনিট এবং ক্লাবের বিশাল অংশ উৎস্বর্গ করে। শুধু তাই নয়, ক্লাবের সদস্যরা দায়িত্বের সঙ্গে টিকাকরণের কাজে নিজেদের সঁপে দেন। প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ টিকা নিয়ে স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

ক্লাবের প্রবীণ অন্যতম কর্মকর্তা বিশ্বরূপ দত্ত তাঁদের সেবামূলক কাজের প্রচার বিমুখ। স্বল্প কথায় তিনি বলেন, “এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

পুরুলিয়া শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। লকডাউন পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়ছেন বিশেষ করে আক্রান্ত ও তাঁদের পরিবার। ওই পরিবারগুলির বাড়িতে গিয়ে তৈরি করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এই প্রতিষ্ঠানটি। তাঁদের এই ভাবনা প্রসঙ্গে ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা সঞ্জিত দত্ত জানান, “আমরা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে এই পরিষেবা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ নম্বর পৌঁছে দিচ্ছি। অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। মানব সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার সুযোগ পেয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত। পরিতৃপ্ত হচ্ছি।”

ক্লাবের সম্পাদক প্রদীপ কুন্ডু জানান, আমরা সারা বছর সমাজ সেবা কাজের মধ্যে  যুক্ত থাকি। বাজারে যাতায়াতকারী মানুষের জন্য স্থায়ীভাবে পরিশ্রুত পানিয় জলের ব্যবস্থা করেছি বহু আগেই। গ্রীষ্মে পশু-পাখিদের কথা ভেবে পুরুলিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় বড় টব বসিয়ে জল পানের ব্যবস্থা করেছি। গত বছর গ্রামে বস্তিতে শুকনো খাবার, খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন সদস্যরা। টিকাকরণের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকায় আমাদের ক্লাবের জনস্বার্থে খুলে দিয়েছি। এবার করোনা আক্রান্ত পরিবারে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন আমাদের যুবরা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *