চাপে পড়ে প্রাইভেসি পলিসি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হোয়াটসঅ্যাপের

আমাদের ভারত, ৯ জুলাই : নুতন প্রাইভেসি পলিসি গ্রহণ করেনি এমন ব্যবহারকারীদের পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করবে না বলে জানিয়ে দিল হোয়াটসঅ্যাপ। ভারতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার সংসদীয় আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা তাদের পলিসি স্থগিত রাখবে বলে আদালতে জানিয়েছে।

এদিন হোয়াটসঅ্যাপের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হরিশ সালভে জানিয়েছেন তাঁরা কোনো ব্যবহারকারীকে তাদের প্রাইভেসি পলিসি বেছে নিতে বাধ্য করবে না। যারা এই পলিসি এখনও গ্রহণ করেননি অ্যাপে তাদের কোন রকম পরিষেবা সীমাবদ্ধ বা বন্ধ করা হবে না এবং সময় সময় তাদের আপডেট দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া তাদের নয়া নিয়মে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কথপোকথন ফাঁস হবে না বলে আদালতে দাবি করেছেন তিনি।

হোয়াটসঅ্যাপের বিতর্কিত তথ্য গোপনীয়তা নীতি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (সিসিআই)। হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে ফেসবুকেরও নীতি সম্পর্কে তথ্য প্রদানের নোটিশও জারি করে সিসিআই। সিসিআইয়ের এই সিধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দারস্থ হয় দুই সংস্থা। কিন্তু আগের থেকেই সেই মামলা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে থাকার কারণে সংস্থাগুলির আবেদন খারিজ করে দেয় হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ।

শুক্রবার শুনানি চলাকালীন ফেসবুকের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মুকুল রোহতগি সিসিআইয়ের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে জানান, তাদের প্রাইভেসি পলিসি সক্রান্ত কোন মামলা দায়ের করেনি কোন ব্যবহারকারী। সিসিআই সুয়ো মোটো মামলা করেছে এবং আই বিষয়েই আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন আদালতে। তাঁর বক্তব্য, উচ্চতর সাংবিধানিক সংস্থার অধীনে থাকা কোন বিষয়ে সিসিআই কীভাবে সুয়ো মোটো মামলা করতে পারে!
সিসিআইয়ের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল আমান লেখি দাবি করেছেন যে, সংস্থা দুটির যুক্তিগুলি কম্পিটিশন অ্যাক্টকে লঙ্ঘন করে। পলিসি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার মানে পলিসির অবসান নয়।
গত ৩ জুন হোয়াটসঅ্যাপের এই প্রাইভেসি পলিসির বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টে হলফনামা পেশ করে কেন্দ্র। কেন্দ্র অভিযোগ তোলে যে, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিল আইনে পরিণত হওয়ার আগেই এই অ্যাপ তাঁর নতুন নীতি মেনে নিয়ে বাধ্য করছে ব্যাবহারকারীদের।
২০২১এর জানুয়ারিতে নতুন প্রাইভেসি পলিসি নিয়ে আসে হোয়াটসঅ্যাপ। প্রাইভেসি পলিসির পাশাপাশি নয়া তথ্য প্রযুক্তি আইন নিয়েও কেন্দ্রের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছে ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং সংস্থাগুলি। যদিও আদালত মামলার শুনানি ৩০ জুলাই পর্যন্ত মুলতুবী রেখেছে। কিন্তু এই বিতর্কের জল কতদুর গড়ায় এখন তাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *