রাজেন রায়, কলকাতা, ৩১ মার্চ: নন্দীগ্রাম মামলায় হলদিয়া আদালত আবু তাহের সহ কয়েক জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার পর আগাম জামিনের আবেদন করে ২৩ মার্চ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের নেতারা। কিন্তু হাইকোর্টে ছুটি পড়ে যাওয়ায় সে মামলার শুনানি হয়নি। তাই গ্রেফতারের আশঙ্কায় বুধবার হাইকোর্টের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে তারা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা খারিজের আবেদন করেন। হাইকোর্টের বিশেষ ডিভিশন এই মামলায় স্থিতাবস্থার নির্দেশ দেয়।
নির্বাচনের আগে স্বস্তিতে নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলন মামলায় অভিযুক্ত আবু তাহের-সহ ১৪ জন। জমি আন্দোলন মামলায় ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্টের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, ৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই মামলায় যারা জেলে রয়েছে তারা যেমন জামিন পাবে না, তেমনই যারা বাইরে রয়েছে তাদের গ্রেফতার করা যাবে না। স্বাভাবিকভাবেই এই রায়ে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে স্বস্তিতে তৃণমূল।
২০১১ সালে, তৎকালীন বাম সরকারের আমলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে শেখ সুফিয়ান, আবু তাহের সহ এলাকার কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। সরকার পক্ষের তরফে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সম্প্রতি নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনকারীদের ওপর থেকে মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের পালটা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়। এরপরই হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ৫ মার্চ নতুন করে নন্দীগ্রাম জমি মামলা চালুর নির্দেশ দেয়। হলদিয়া আদালত শুনানিতে অভিযুক্তদের জামিন নাকচ করে গ্রেপ্তারির নির্দেশ দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে গিয়েছিলেন আবু তাহেররা। বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ আজ এই নির্দেশ দেয়।

