অদ্বৈতপাটের ঢিল ছোড়া দূরত্বে পানশালা তৈরি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৩ ফেব্রুয়ারি: সন্ধে হলেই সুন্দরী রমণীদের নাচ গান। চলছে মদ্যপান, উড়ছে টাকা। মহাপ্রভুর পিঠস্থান
অদ্বৈতপাটের ঢিল ছোড়া দূরত্বে পানশালা তৈরি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এক মাসের মধ্যেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বললেন বিধায়ক। বিধায়কের লজ্জা হওয়া উচিত পালটা দাবি বিজেপি সাংসদের। ঘটনাটি নদিয়ার শান্তিপুর থানার গোবিন্দপুর বাবলা এলাকার।

জানা যায়, শান্তিপুর থানার বাবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশেই একটি হোটেলে নতুন করে শুরু হয়েছে পানশালা। যেখানে বেশ কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যা হলেই শুরু হয় যুবতীদের আনাগোনা। চলে গান বাজনা। আর সেখানেই মদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে রঙিন জগতে ভেসে যাচ্ছে যুব সমাজ, দেদার উড়ছে টাকা। শান্তিপুর বহু প্রাচীন শহর। শান্তিপুরের কৃষ্টি সাংস্কৃতির ইতিহাসে আগে কখনও এই ধরনের পানশালার অনুমতি দেয়নি কোনো সরকার। শুধু তাই নয়, যেখানে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত, বিদ্যালয়, পাশাপাশি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যেখানে এসে বিশ্রাম নিতেন সেই অদ্বৈত পাঠ। এই অদ্বৈতপাটে গোটা দেশ থেকে ভক্তরা আসেন দর্শন করতে। আর সেই রকম একটি জায়গায় কিভাবে পানশালার অনুমতি দিল সরকার তাই নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। পরিবেশ কর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এ বিষয়ে।

যদিও আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী। তিনি বলেন, ওই হোটেলটি কুড়ি বছর আগে চালু হয়েছিল, তখন বিরোধীরা কোথায় ছিল? আমি আইন পরিষদের একজন সদস্য। সেই কারণেই আমি কি পদক্ষেপ নেব সেটা নিশ্চয়ই ঢাক ঢোল পিটিয়ে করবো না। আগামী এক মাসের মধ্যেই কি ব্যবস্থা নিই সেটা সকলের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন রানাঘাট কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তিনি বলেন, কিভাবে ওইরকম একটি জনবহুল এলাকায় পানশালার অনুমতি দিল সরকার। পাশাপাশি তিনি বলেন, যে বিধায়ক বর্তমানে শান্তিপুরে রয়েছে অদ্বৈতপাট তাদের বংশধরের। লজ্জা হওয়া উচিত এই পানশালার অনুমতি নিয়ে তার।

এ বিষয়ে এআইডিওয়াইও সংগঠনের তরফ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় শান্তিপুর থানায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক তরজার পর শান্তিপুরের ঐতিহ্য সংস্কৃতি বজায় রেখে আদৌও এই ধরনের পানশালা বন্ধ হয় কি না সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *