পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ মে: অভিষেক জেলা ছাড়তেই দণ্ডিকাটা কাণ্ড নিয়ে নড়েচড়ে বসল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন। শুরু হল প্রদীপ্তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার যার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে একটি আইনি নোটিশ জারি করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন বলে সুত্রের খবর। আইনি ওই নোটিশের জেরে প্রথমে প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তারপর গ্রেফতারও করা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণে তপনের গোফানগরের চার আদিবাসী মহিলাকে গত ৭ এপ্রিল রাতে দণ্ডি কাটাবার অভিযোগ ওঠে প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। বালুরঘাট শহরের বাসিন্দা তথা প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তীর পুত্রবধূ প্রদীপ্তা চক্রবর্তী যে সময় জেলার মহিলা সভানেত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তার উপস্থিতিতে ওই চার আদিবাসী মহিলাকে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা দণ্ডি কাটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। যে ভিডিও ভাইরাল হতেই রীতিমতো আলোড়ন পড়ে যায় গোটা দেশজুড়ে। যে ঘটনা নিয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলে দাবি করে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। অন্যদিকে এই ঘটনা নিয়ে প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর গ্রেফতারের দাবিতে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দেয় বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনগুলি। যা নিয়ে কার্যত অস্বস্তিতে পড়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক বিমুখ হবার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি জেলায় ছুটে আসেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২ মে সন্ধ্যায় তপনের চক সাথিহার গ্রামে চায়ের আড্ডায় বসবার নাম করে কথা বলেন দণ্ডি কাটানো তিন আদিবাসী মহিলার সাথে। যাদের সাথে সরাসরি কথা বলেই ঘটনার গভীরতার পাশাপাশি প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর ভূমিকার বিষয়টিও স্পষ্ট হয় তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের কাছে। আর এরপরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওই ঘটনা নিয়ে কড়া বার্তা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ঘটনার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই দলীয় নির্দেশে প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে সরানো হয়েছিল মহিলা সভানেত্রীর পদ থেকে। এরপর ২ মে রাতেই রাজ্যের কড়া নির্দেশে ফের দ্বিতীয় পদ হারান শঙ্কর চক্রবর্তীর পুত্রবধূ প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। সরিয়ে দেওয়া হয় বালুরঘাট পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে। যার পরেই জল্পনা ছড়িয়েছিল প্রদীপ্তার গ্রেফতারি নিয়ে।
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রদীপ্তার গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি ও আদিবাসী সংগঠনগুলি। এবারে কার্যত তাদের সেই দাবিকে প্রাধান্য দিয়েই প্রদীপ্তার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ প্রশাসন শুরু করল আইনি প্রক্রিয়া। এদিন যার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে প্রদীপ্তার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন বলে সুত্রের খবর। আইনি ওই নোটিশের বলে দণ্ডিকাটা কান্ডের ঘটনা নিয়ে সাত দিনের মধ্যে প্রদীপ্তাকে হাজিরা দিতে হবে। যেখানে প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তারপর গ্রেফতারও করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে জানিয়েছেন, কেসটির ভেরিফিকেশন চলছে। নোটিশ সাধারণত জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই করা হয়। এক্ষেত্রে কি রয়েছে তা দেখে তবেই সঠিকটা বলতে পারবেন।

