আমাদের ভারত, ১২ সেপ্টেম্বর: নবান্ন অভিযানে অংশ নিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে কলকাতায় আসছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। তাদের জন্য ট্রেন ভাড়া করেছে বিজেপি। কিন্তু তাদেরকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এর ফলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, তুফানগঞ্জ একাধিক জায়গায়। ধুপগুড়ি, বিন্নাগুড়ি নাগরাকাটা, বানারহাট সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিজেপি কর্মী নেতাদের অভিযোগ, নবান্ন অভিযানের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া বিজেপি কর্মীদের কোথাও ট্রেন ধরার জন্য স্টেশনে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ, কোথাও কর্মীদের জোর করে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
১৩ সেপ্টেম্বর নবান্ন অভিযান কলকাতায়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মীদের নিয়ে আসতে সাতটি বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে পদ্ম শিবির। সোমবার বিকেলে সেইসব ট্রেন শিয়ালদা হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তুফানগঞ্জ সহ একাধিক জায়গায় সোমবার রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রেল স্টেশনে যাওয়ার পথ লোহার ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ বিজেপির। সেখানে বিজেপি বিধায়ক মালবী রাভা উপস্থিত ছিলেন। ব্যারিকেডের কারণে বিজেপি কর্মীরা স্টেশনের ঢুকতে বাধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন তারা।

আলিপুরদুয়ারের কামাখ্যাগুড়ি থেকে নবান্ন অভিযানে যাওয়া বিজেপি কর্মী সমর্থকদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। কামাখ্যাগুড়ি আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে বিজেপি সমর্থক ও কর্মীদের পুলিশ টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, শতাধিক বিজেপি কর্মীকে রাজ্য পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ দল দাসে পরিণত হয়েছে বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পদ্ম নেতারা। এমনকি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অম্লান ঘোষও।
এত ভয় দিদি? আপনি তো নবান্ন ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, তৃণমূলের পুলিশ দিয়ে এখন স্টেশনে স্টেশনে বিজেপি কর্মীদের আটকাচ্ছেন? এভাবে আপনি পুলিশ দিয়ে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতাকে নষ্ট করতে পারেন না। রাজ্যে কি জরুরি অবস্থা চলছে? মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে। pic.twitter.com/r5u3qRDoll
— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) September 12, 2022
সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “আলিপুরদুয়ারে তুফানগঞ্জ স্টেশনের ভেতরে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। রেল চত্বরে রাজ্যের পুলিশের ঢোকার অধিকার নেই। স্টেশনে কোনো অভিযান থাকলে অনুমতি নিতে হয়। জোর করে ঢুকে বিজেপি কর্মীদের বাধা দিচ্ছে পুলিশ। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পাচ্ছেন। বিজেপি কর্মীরা রাজপথে নামলে তার গদি নড়বড়ে হবে। তাই তিনি নবান্নে থাকবেন না। ভয়ে জেলায় পালিয়ে গেছেন আর তার পুলিশকে নামিয়ে জনগণকে বাধা দিচ্ছেন।”
তৃণমূলের চোরেদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে ভয় পেয়েছে তৃণমূল, তাই পুলিশ দিয়ে জোর করে মিছিলে যেতে বাধা দিচ্ছে।
তৃণমূলের চোরেদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে ভয় পেয়েছে তৃণমূল, তাই পুলিশ দিয়ে জোর করে মিছিলে যেতে বাধা দিচ্ছে।
যতই বাধা দিন না কেন মমতা ব্যানার্জী, বাংলার মানুষের মুখে এখন একটাই আওয়াজ তৃণমূলের সবাই চোর। pic.twitter.com/Ya562znXZ9
— BJP West Bengal (@BJP4Bengal) September 12, 2022
এ ঘটনায় সরব হয়েছেন বিজেপি নেতারা। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী টুইটে লিখেছেন, “কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে পিসির দালালরা বিজেপি কর্মীদের আটকাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ উত্তর কোরিয়ায় পরিণত হয়েছে। পিসি ভয় পেয়ে নবান্ন ছেড়ে মেদিনীপুরে পিকনিক করতে পালিয়েছেন। তাকে নিউটনের তৃতীয় সূত্র মনে করাতে চাই। প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে।”
টুইটারে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য লিখেছেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপির নবান্ন অভিযানে ভয় পেয়েছে বাংলা প্রশাসন। বিজেপি কর্মীদের কলকাতায় যাওয়া আটকাতে স্থানীয় প্রশাসনকে নামানো হয়েছে। কতজনকে আটকাবেন মমতা?”
দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “এইভাবে আটকালে আমাদের জবাব দিতে হবে।” বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের গলাতেও একই সুর শোনা গেছে। তিনি বলেছেন, “এটা আগেও হয়েছে। আমাদের মিছিলে বাধা দিয়েছে রাজ্য সরকার। জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। আমরা চুপচাপ বসে মার খাব না।”

