একই মন্দিরে ভদ্রাকালী ও পীরবাবার পুজো করে আসছেন পুরুলিয়ার হিড়বহাল গ্রামের মানুষ

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২ নভেম্বর: পাঁচশ বছর ধরে একই মন্দিরে ভদ্রাকালী ও পীরবাবার পুজো করে আসছেন পুরুলিয়ার হিড়বহাল গ্রামের মানুষ। ওই মন্দিরে নিত্যপূজা ছাড়াও বিশেষ দিনে আড়ম্বরের সঙ্গে পুজো হয় দুই দেবতার। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির বাঁধন আরও মজবুত করে তোলেন। জাগ্রত দুই দেবতার আশীর্বাদ পেতে উপচে পড়েন ধর্মপ্রাণ মানুষ।

কথিত আছে পাঁচশ বছর আগে জঙ্গলের মধ্যে থাকা এই এলাকায় তপস্যারত এক মুনিকে স্বপ্নাদেশ দেন ভদ্রাকালী। সাক্ষাৎ ও আদেশ পেয়ে এই স্থানেই পুজো পাঠ শুরু করেন তিনি। সেই সময় দেবী ওই মুনিকে একটি অস্ত্র দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে সেই অস্ত্র দুষ্কৃতী ও চোর ডাকাতদের থেকে রক্ষা করত। ভদ্রাকালী পুজোর কিছুদিন পরই পীর বাবা ওই স্থানেই তাঁর উপাসনা করার নির্দেশ দেন মুনিকে। একজন হিন্দু ধর্মের হয়ে কিভাবে পীরের পুজো করবেন তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না মুনি। পীর বাবার কথা মতো ওই স্থানেই মাজার প্রতিষ্ঠা করে সম্প্রীতির পীঠস্থান হয়ে ওঠে ওই প্রান্তিক গ্রাম। কথাগুলো বলছিলেন সাত পুরুষ ধরে পুজো করে আসা পুরোহিত তপন বাউরি।

মন্দিরে মা কালীর কোনও বিগ্রহ নেই। পাষাণই দেবী রূপে পূজিতা হচ্ছেন ভদ্রাকালী। সব ধর্মের মানুষের কাছে জাগ্রত ওই দেবী ও পীর বাবা। নিত্য পূজা হয় মন্দিরে। প্রত্যেক বছর ১ মাঘ বড় আকারে পুজো হয়। মেলা বসে। জেলা ছাড়িয়ে ভিন রাজ্য থেকে ভক্তরা আসেন এখানে। উৎসবের চেহারা নেয়। বলি প্রথা আজও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *