কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে স্ক্রুটিনী না হওয়ার আশঙ্কা, বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাইস্কুলে বিক্ষোভ অভিভাবকদের

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৪ জুন: স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে ছাত্রীদের স্ক্রুটিনী না হওয়ার আশঙ্কায় অভিভাবক ও ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই কারণে অভিভাবকরা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে ঘেরাও করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলার অন্যতম নামী স্কুল বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাইস্কুলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বেশ কিছু অভিভাবক। আজ তারা প্রধান শিক্ষিকাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। সমাধান না হলে ধরনা অবস্থানের হুমকি দেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এবার এই বিদ্যালয় থেকে ২৫৪ জন ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। সকলেই পাশ করেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই মেধা তালিকার কাছাকাছি নম্বর পেলেও সেইসব ছাত্রীরা মনে করছেন তাদের আশানুরূপ ফলাফল হয়নি। আবার অনেকে মেধা তালিকার অনেক পিছনে থেকেও তারা নিশ্চিত তাদের আরও বেশি নম্বর পাওয়া উচিত ছিল। এরকম ৯৩ জন ছাত্রী এক বা একাধিক বিষয়ে স্ক্রুটিনি করার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পর্ষদের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ছাত্রীদের করা আবেদন জমা করেননি। তারপরই পর্ষদের পোর্টাল বন্ধ হয়ে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ মেনে নিলেও তাদের গাফিলতি নেই বলে দাবি করেছেন।

বিক্ষোভকারী এক অভিভাবক প্রাণকৃষ্ণ মল্লিক বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিলেন, ১১ জুনের মধ্যে স্ক্রুটিনির জন্য আবেদন করতে হবে। সেই মত ৯৩ জন ছাত্রী ১১ তারিখের মধ্যেই আবেদন জমা দেন। ১৭ জুন পর্যন্ত পর্ষদের পোর্টাল চালু ছিল। তারপরই তা বন্ধ হয়ে যায়। তার দাবি, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১১ তারিখ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে আবেদন পত্র গুলি কেন পাঠাতে পারলেন না। এটা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি বলেই আমাদের মনে হচ্ছে।

আরেক অভিভাবক অশোক হাজরা বলেন, প্রত্যেক বিষয়ের জন্য ৪০ টাকা করে ও বাড়তি ৫ টাকা দিয়ে কেউ একটি আবার কেউ ২ টি বা ৩ টি বিষয়ে স্ক্রুটিনির জন্য আবেদন করেছে। অনেকে নিশ্চিত, তাদের নম্বর বাড়বে। হয়তো রাজ্য মেধা তালিকাটাই বদলে যাবে। অশোক হাজরার দাবি, বিদ্যালয়ে আবেদন করার শেষদিন ছিল ১১ জুন। ১৭ জুন পর্যন্ত পর্ষদের অনলাইন পোর্টাল চালু ছিল। মাঝের এই ৬ দিনের মধ্যে কেন পাঠাতে পারলেন না বুঝলাম না। আমাদের মেয়েরা যদি স্ক্রুটিনির সুযোগ না পায় তাহলে প্রধান শিক্ষিকাকে ঘেরাও করে রেখে আমরা ৯৩ জন অভিভাবক ধরনায় বসব। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জেলা শাসক জেলা স্কুল পরিদর্শক সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাব।

এবিষয়ে বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অভিজিতা চৌধুরী বলেন, এটা আমাদের উদাসীনতা বা গাফিলতি নয়। তবে অনিচ্ছাকৃত সামান্য ভুলের জন্য এটা ঘটে গেছে। তিনি বলেন, আমরা ১১ জুন আবেদন করার শেষ তারিখ ঘোষণা করেছিলাম ঠিকই। তারপরও ভেবেছিলাম যদি আরও কেউ আবেদন করে তাহলে সকলেরই এক সাথে পাঠাব। কিন্তু ১৭ তারিখ নেট সংযোগ ও সার্ভার গন্ডগোল ছিল। এদিকে ওই দিনই পর্ষদও তাদের অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করে দেয়। সেকারনে আমার স্কুলের আবেদন পত্র গুলি এখনও জমা দিতে পারিনি। তার বক্তব্য, আমরা বিভিন্ন ভাবে পর্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। প্রয়োজনে ওখানে গিয়ে যোগাযোগ করব। এখানে আমার স্কুলের সুনাম জড়িয়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *