সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৭ জানুয়ারি: রাজ্য বিজেপিতে এমন চড়ুইভাতির আয়োজন নতুন নয়। তবে রাজ্য বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতারাদের নিয়ে চড়ুইভাতির আয়োজনে বঙ্গ বিজেপিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য বিজেপিতে যে ভাবে ক্ষোভ-বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তাতে বনগাঁয় সোমবারের চড়ুইভাতি নিয়ে গেরুয়া শিবিরে আলোচনা মধ্যগগণে। কারণ, এই চড়ুইভাতিতে আমন্ত্রিতরা সকলেই রাজ্য বিজেপির বর্তমান কমিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শনিবার কলকাতায় বিক্ষুব্ধদের নিয়ে বৈঠক করেছেন শান্তনু ঠাকুর। মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা শান্তনু ঠাকুর রবিবার ঠাকুরনগরে বৈঠক করেছেন মতুয়া বিধায়ক ও অন্য নেতাদের নিয়ে। আর আজ সোমবার আয়োজন হল চড়ুইভাতির। কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলা থেকেও রাজ্য বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতারা হাজির ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর ন’হাটায়। সেখানেই চড়ুইভাতির আয়োজন হয়েছিল। এদিন সেই বৈঠকে পদ্মের রাজ্য কমিটি থেকে বাদ পড়া রীতেশ তিওয়ারি, সায়ন্তন বসুরা হাজির ছিলেন, তেমনই বর্তমান কমিটির মুখপাত্র তথা প্রাক্তন সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারও সেই চড়ুইভাতিতে অংশ নিয়েছেন। হাজির ছিলেন সুব্রত ঠাকুর, অশোক কীর্তনীয়া-সহ অন্যান্য মতুয়া বিধায়করাও। উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ লোকসভার সাংসদ শান্তনু ঠাকুরও।
নতুন কমিটিতে জায়গা না পাওয়া রীতেশ, সায়ন্তনরা, প্রথম থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঘনিষ্ঠ মহলে। অন্য দিকে জেলা সভাপতিদের নামের তালিকা প্রকাশের পরে সাংগঠনিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ত্যাগ করে প্রতিবাদে শামিল হন পাঁচ মতুয়া বিধায়ক। সেই ক্ষোভের সুরকে আরও মজবুত করে দলের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তাঁর সব ক্ষোভই রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীকে ঘিরে। যদিও প্রকাশ্যে নাম না করে অমিতাভের দিকে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার তির ছুঁড়েছেন শান্তনু ঠাকুর। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন জয়প্রকাশ, রীতেশ, সায়ন্তনদের মতো পরিচিত মুখেরা।
যদিও বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর জানিয়েছে, এখানে কোন বৈঠক নয়, খোলা মেলা জায়গায় সকলের সঙ্গে আলোচনা করা। এই চড়ুইভাতিতে রাজ্যের অনেক নেতা কর্মীরাই থাকবে।

