“আমাদের সরকার কাজ করে, শুধু কথা বলে না, আমি চাই আমার রাজ্যবাসী ভালো থাকুক”, শিলিগুড়িতে বললেন মমতা

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ২৭ মার্চ: রাজ্যজুড়ে সরকারের একের পর এক প্রকল্প সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে। বিধবাভাতা চালু হওয়াতেও উপকৃত হয়েছেন প্রচুর বিধবা। রাজ্যে এই মুহূর্তে ২৩ লক্ষ বিধবা ভাতা চলছে। শিলিগুড়ি- জলপাইগুড়িতে আগে প্রায় ১৪ হাজার বিধবাভাতা চালু ছিলো। এবার আরও ১৫ হাজার ভাতা চালু হয়ে গেলো। এই ভাতা পেয়ে উচ্ছ্বসিত বিধবা মহিলারা। এদিন অনুষ্ঠানে এসে তারা ধন্যবাদ দিদি লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়েই বসেছিলেন।

সুকান্তপল্লির বাসিন্দা নুপুর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ আমাদের কথা ভাবায়। এই ভাতা পেলে সত্যি উপকৃত হবো। উনি যে আমাদের অভিভাবক তা আবার প্রমাণ করলেন।”

অন্যদিকে সুভাষপল্লী থেকে আসা সীমা সরকার বলেন, “প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমাদের যে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী নিয়েছেন তাতে সত্যি প্রচুর মহিলার সুবিধা হবে। উনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।” কারও স্বামী ছিলেন রাজমিস্ত্রী কারও আবার দিনমজুর। তারা স্বামীহারা হতেই সংসার নিয়ে দিশেহারা হয়ে যান। তাই তারা এই হাজার টাকা পেয়েই দারুণ খুশী।

এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যজুড়ে নানান প্রকল্প চলছে। আমরা প্রথমে দিদিকে বলো কর্মসূচি চালু করেছিলাম। সেখানে আপনারা আমাকে অভিযোগ করতেন দাবি করতেন তা মেটানোর চেষ্টা করতাম আমি। এরপর আমি চালু করলাম দুয়ারে সরকার। সারা রাজ্যে ১লক্ষ ৩৭ হাজার ক্যাম্প হয়েছে। আর তাতে প্রায় ৬ কোটি মানুষ এসেছিল। এদের মধ্যে ৪ কোটিরও বেশি মানুষ পরিষেবা পেয়েছে। তাই ওই সকল আধিকারিকদের আমি ধন্যবাদ জানাই যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এটা সফল করেছে। রাজ্যে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন। ২ কোটির ওপর স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দেওয়া হয়েছে। আবার ৭৭ লক্ষ কন্যাশ্রী আর প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ সাইকেল দেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সরকার কাজ করে, শুধু কথা বলে না। আমি চাই আমার রাজ্যবাসী ভালো থাকুক।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাজ্যে যত প্রকল্প চলছে সারা বিশ্বে কোনও সরকারের এত প্রকল্প নেই। আমাদের অনেক প্রকল্পই সেরার শিরোপা পেয়েছে। আমরা রাজ্যবাসীকে পাট্টা প্রদান করেছি। পাহাড়েও এবার পাট্টা প্রদান করা হবে। নানান সমস্যায় দু’বছর করা যায়নি। যারা রেলের জমিতে বাস করেন তাদেরও পাট্টা দেওয়া হবে। আমরা কাউকে উচ্ছেদ করি না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *