আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৯ ফেব্রুয়ারি: আর ‘মেরে পগারপার’ নয়। এবার কর্মী সমর্থকদের ধরে রাখতে সভা মঞ্চের পাশে অর্কেস্ট্রার ব্যবস্থা রাখতে হল তৃণমূলকে। মঞ্চে নেতাদের ভাষণ কমিয়ে বাড়ানো হল গানের সংখ্যা। দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দাবি মহিলাদের আনন্দ দিতেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার রামপুরহাট কলেজ মাঠে তৃণমূলের মহিলা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সভায় মহিলার সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়ায় ব্লক সভাপতিকে ধমক দেন অনুব্রত। সে সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল, সিউড়ির বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়, রামপুরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশ্বিনী তেওয়ারি।
এদিন সভামঞ্চে অনুব্রত মণ্ডল আসার আগেই পাশের অর্কেস্ট্রা মঞ্চ থেকে রথীন কিস্কু গান ধরেন ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’। তারপরেই মহিলা শিল্পী মামন চট্টোপাধ্যায় শিল্পী ইমন চক্রবর্তীর গান ধরে মাতিয়ে দেন সভাস্থল। সভায় কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মালের পর অনুব্রত মণ্ডল সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে ফের অর্কেস্ট্রার গান শুরু হয়। সেই গানের সুরে কিছু মহিলা যেমন দু’হাত তুলে নাচানাচি করেন। আর মঞ্চে বসে পা দোলান অনুব্রত। কিন্তু কেন এই অর্কেস্ট্রা? অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “মহিলারা সারাদিন রান্নাবান্না করেন। তাই এখানে কিছুটা আনন্দ দিতে এই গানের ব্যবস্থা করা হয়েছে”।

যদিও বিজেপির জেলা সহ সভাপতি শুভাশিস চৌধুরী বলেন, “অনুব্রতর বক্তব্য মানেই হিংসা। বোম মেরে দাও। হাত পা ভেঙ্গে দাও। মেরে পগারপার করে দাও। বাংলার মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা রক্তাক্ত বাংলা চান না। তাই অনুব্রতর বিভিন্ন সভায় লোক কমতে শুরু করেছিল। বাধ্য হয়ে হিংসার বক্তব্য না দিয়ে কর্মী সমর্থক ধরে রাখতে নাচ গানের ব্যবস্থা করেছে। তবে নির্বাচনের পর পাপের ফল তিনি পাবেন”।
এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুব্রত বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর যত দাড়ি বাড়িছে ততই দেশে ডিজেল, পেট্রোলের দাম বাড়ছে। বিজেপির অবস্থা এখন বুড়ো গরুর মতো। ওরা এখন বসে পড়েছে”।
সেনাবাহিনী নামানো প্রসঙ্গে অনুব্রত বলেন, “সেনাবাহিনী প্রতিবছর নামে। তাতেও তো আমরা আছি। এবার পাড়ায় পাড়ায়, ঘরে ঘরে খেলা হবে। সেনাবাহিনী নামিয়েও কিছু হবে না”।


