আমাদের ভারত, ৩০ জুলাই:
রাজ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সকলের টিকাকরণ সম্পূর্ণ না হলে উপনির্বাচনের দিকে এগোনো উচিত নয়। শুক্রবার আবার এই কথা বললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য উত্তরাখণ্ডে বিজেপির নেওয়া সিদ্ধান্তকে অনুসরণ করা উচিত তৃণমূলের। অবিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর বদলে দলের বিধায়কদের মধ্যেই অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করে দেওয়া হোক।
এখনই উপনির্বাচন করা উচিৎ কি না, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের রাজ্যের বিরোধীদল নেতা বলেন, দলগত ভাবে যা ভাবনা তা আমাদের দলের মুখপাত্ররা বলেছেন। আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলেই গতকাল আগস্ট মাসেও আংশিক লকডাউন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রাজ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত থাকবে বিধি-নিষেধ।শুধু হলঘরে ৫০ শতাংশ আসন নিয়ে সরকারের অনুষ্ঠানের ছাড় দেওয়া হয়েছে। রাত ন’টা থেকে সকাল পাঁচটা পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকছে। স্কুল কলেজ খোলা যাবে না। ধর্মীয় শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে রাজ্য সরকার একরকম স্বীকার করে নিয়েছে, রাজ্যে এখনো কোভিড পরিস্থিতি রয়েছে। আর রাজ্যের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকার নিজেই বলছে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করা যাবে না। তাহলে কিভাবে ভোট হবে? নির্বাচন মানে তো রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ। নেতা-নেত্রীদের প্রচার। সেটাই নিয়ন্ত্রিত থাকলে বলতে হয় নির্বাচন বা উপ নির্বাচনের পরিবেশ নেই। আর সরকারি নির্দেশিকাও সেই কথাই বলছে। শুভেন্দু বলেন, “আমি মনে করি ১৮ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের টিকাকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে উপনির্বাচন বা নির্বাচন করা উচিত নয়। এটা আগেও বলেছি।”
নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে সে কথা মনে করিয়ে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের জনগণ অবিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীকে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছেন। তৃণমূল তাঁকে নিয়ে চিন্তিত হতে পারে। তাই তাদের বলব, বিজেপিকে অনুসরণ করুন। কিছুদিন আগে উত্তরাখণ্ডের অবিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে নির্বাচিত বিধায়ককে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বিজেপিকে বহিরাগত প্রচারক এবং আধা সামরিক বাহিনী জাওয়ানদের রাজ্যে করোনা ছড়ানোর জন্য তৃণমূল দায়ী করেছিল ভোটের সময়। তাই তৃণমূলের উচিত টিকাকরণ সম্পন্ন হওয়ার পরেই ভোটের দাবি করা। ওদের অনেক বিধায়ক আছে তাদের মধ্যে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করুন।”
সম্প্রতি বাংলায় সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকায় শীঘ্রই উপনির্বাচনের জন্য দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপনির্বাচনের দাবিতে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। কিন্তু করোনার মতো পরিস্থিতিতে রাজ্যে এই মুহূর্তে ভোট চায় না বিজেপি। তবে উপনির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতির জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

