অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১৬ নভেম্বর: মঙ্গলবার বিরসা মুন্ডার জন্ম জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর ২ ব্লকের বেলপাহাড়ি থানার সাহাড়ি ফুটবল মাঠে এসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির টুরিস্ট কমপ্লেক্সে রাত্রিযাপন করেন। বুধবার বেলা প্রায় একটা নাগাদ ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির টুরিস্ট কমপ্লেক্স থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য তিনি ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের হেলিপ্যাড ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। হেলিপ্যাড ময়দানে যাওয়ার আগে ঝাড়গ্রাম শহরের সারদাপীঠ মোড়ে মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে সারদাপীঠ কন্যা গুরুকুল স্কুলের শিক্ষিকাদের সাথে তিনি কথা বলেন এবং তাদের ভালো মন্দ জানতে চান। সেই সঙ্গে শিশুদের হাতে তিনি খেলনা ও চকলেট তুলে দেন। এরপর বুধবার বেলা একটা দশ মিনিট নাগাদ তিনি ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের হেলিপ্যাড ময়দানে গিয়ে পৌঁছন।
সেখানে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নের দিকে কোনো নজর দেয়নি। বিজেপি শুধু রাজনীতি করার জন্য বাংলার কুৎসা ও অপপ্রচার করছে। বিজেপি মাটিতে নেই, মানুষের পাশে নেই, মানুষের কাজে নেই, আসমানে রয়েছে। উত্তর প্রদেশ সহ বিজেপি পরিচালিত রাজ্যগুলিতে দলিতদের উপর নির্মম অত্যাচার হচ্ছে। সেদিকে কেন্দ্র সরকার, ইডি ও সিবিআই’য়ের নজর নেই। নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীরা কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, সেই টাকার উৎস কি? কোথা থেকে সেই টাকা আসছে? সে ব্যাপারেও ইডি, সিবিআইয়ের কোনো উৎসাহ নেই। সেই সঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি সাংসদ দিলীপ ঘোষের নাম না করে তিনি বলেন, অর্পিতার বাড়ি থেকে কারো দলিল পাওয়া গেলে ইডি সিবিআই তাকে গ্রেফতার করে। তাহলে কোনো একজনের বাড়ি থেকে বিজেপির এক নেতার বাড়ির দলিল পাওয়া গেছে, তাকে কেন ইডি ও সিবিআই গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসা করছে না। বিজেপি বলে কি তার বিরুদ্ধে কোনো কিছুই করা হবে না। ইডি ও সিবিআই শুধু বেছে বেছে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের উপর নজর করছে। ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে ইডি ও সিবিআই রাস্তায় নেমে পড়ে। কিন্তু কেন বিজেপি নেতাদের গ্রেফতার করা হয়নি? সে নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের হেলিপ্যাড ময়দানের চারপাশে থাকা মানুষজনদের শুভেচ্ছা জানান এবং কুশল বিনিময় করেন। এরপর তিনি একটা ১ টা ১৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে চড়ে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের হেলিপ্যাড ময়দান থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

