আমাদের ভারত, কাঁথি, ২৪ মার্চ: ২ মে দিদি যাচ্ছে, বাংলায় আসল পরিবর্তন আসছে। বাংলার মানুষ ঐদিন দিদিকে দরজা দেখিয়ে দেবে। কারণ তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। আজ পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এইভাবে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শুভেন্দু অধিকারীদের বাড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে এই জনসভায় উপচে পড়া মানুষের ভিড়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২ মে দিদি যাচ্ছে, বাংলায় আসল পরিবর্তন আসছে। তিনি বলেন, এখন ভোট এসেছে তাই তিনি এখানে বারবার এসে বাহানা করছেন, অথচ তিনি অভিযোগের কোনো উত্তর দিচ্ছেন না। এখনো আমফানের টাকার হিসাব দেননি। কেন্দ্র যে ত্রাণ পাঠিয়েছিল তা ভাইপোর উইন্ডোতে ফেঁসে গিয়েছে। হিসাব চাইলে তিনি গালি দেন। প্রধানমন্ত্রী সুর করে বলেন, দিদি…ই ও দিদি….ই শুনছেন, আমফানের টাকা, গরিবের চাল কেন লুট করেছে? তিনি তীব্র আক্রমণ করে বলেন, যখন তাঁর প্রয়োজন হয় তখন দিদি দেখা দেন। যখন ভোট আসে তখন বলেন, দুয়ারে দুয়ারে সরকার। এই উনার খেলা। এখন বাচ্চারাও বুঝে গেছে তাঁর এই খেলা। তাই ২ মে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দিদিকে দরজা দেখাবে। তিনি আবারও শুরু করে বলেন দিদি..ই ও দিদি…ই, তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে।
বারবার দিদি ডাকের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দিদি তো কারো কথা শোনেন না, তাই আমাকে বারবার বলতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলার মা বোনেরা এই কুশাসনের সাজা দিতে আজ বেরিয়ে এসেছে, যেখানেই যাচ্ছি দেখছি মানুষ, শুধু মানুষ। এই ছবি তো দিদি দেখেন না, দেখতে হলে দেখে নিন। আজ বাংলার মা-বোনেদের স্বাভিমান জেগেছে তাঁরা দিদির খেলা শেষ করবে।
তিনি বলেন, খেলা শেষ হবে, বাংলার বিকাশ আরম্ভ হবে। এখানকার বিকাশ বিজেপির সংকল্প। বাংলার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিজেপি সর্বশক্তি দিয়ে করবে। কারণ বাংলার মানুষ চায় শিল্প, বাংলার মানুষ চায় কর্মসংস্থান, বাংলার মানুষ চায় নারীসুরক্ষা, কৃষকের সম্মান, বাংলার শ্রমিক-কর্মচারীর সম্মান– বিজেপি সেটা দেবে। বাংলায় দরকার বিজেপি সরকার, তাহলেই সব জায়গায় বিকাশ হবে এবং রাজ্যের সব জায়গায় বিকাশ পৌঁছে দেওয়াই বিজেপির সংকল্প। সব জায়গায় দুর্নীতি রুখতে ব্যবস্থা নেবে বিজেপি। কাটমানি কালচার, কমিশন, তোলাবাজি বন্ধ করতে সব প্রকল্পে মেশিন লাগিয়ে দেবে বিজেপি, তা হলে আর তোলাবাজি থাকবে না।
তৃণমূলকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকার মানুষের সমস্যা নিয়ে ভাবে না। বাংলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের যে কাজ চলছে সেই কাজ এগিয়ে নিতে এখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার দরকার। ডবল ইঞ্জিন সরকার হলে কাজের গতি কয়েক গুণ বাড়বে।
কৃষক সম্মান নিধি চালু না করায় তিনি বলেন, দিদি যে নির্মমতা দেখিয়েছেন তা বাংলার কৃষকরা ভুলবে না, কারণ কিষান সম্মান নিধি তাঁদের কাছে পৌছতে দেয়নি। কৃষকদের সঙ্গে শত্রুতা করেছে। বাংলার কৃষকরা ২ মে এর জবাব দেবে। তিনি বলেন, গত তিন বছরের এই কিষান সম্মান নিধি আমি তাঁদের একাউন্টে জমা করব, যা দিদি দিতে দেননি।

এদিন তিনি বহিরাগত তত্ত্ব নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে বাংলার মাটির বন্দেমাতরম মন্ত্র সারাদেশকে বেঁধেছে, সেখানে বলা হচ্ছে বহিরাগত। বঙ্কিমচন্দ্র, সুভাষচন্দ্র, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ তাদের ভূমি থেকে দেশের মানুষকে বলছে বহিরাগত! আমরা কেউ বহিরাগত নই। আমরা ভারত মাতার সন্তান। দিদি….ও…দিদি, এখানে কেউ বহিরাগত নয়, সবাই আমরা ভারত মাতার সন্তান। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, যে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন পঞ্জাব, সিন্ধু, গুজরাট, মারাঠা– সারাদেশকে একসূত্রে বেঁধেছেন, সেই গুরুদেবের বাংলা ভূমি থেকে ভারতের মানুষকে আজ বহিরাগত বলা হচ্ছে! গুরুদেবের মাটি কাউকে বহিরাগত মানে না।
তৃণমূলের খেলা হবে স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আপনি খেলেন, আর আমরা সেবা করব। খেলা নয়, সেবা হবে। বিজেপির একটাই মন্ত্র, গরিবের রোজগার, গরিবের বাড়ি, গরিবের সম্মান। বাংলার লোক উনার খেলা বুঝে গেছে আর তাই এখন নন্দীগ্রাম এগিয়ে মিথ্যা কথা বলছেন।
তিনি নন্দীগ্রামের মানুষের বদনাম করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নন্দীগ্রামে আঘাত পাওয়া প্রসঙ্গে এদিন তিনি এই ভাবেই ঘুরিয়ে উত্তর দেন। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামের মানুষকে আজ বদনামের ভাগি করছেন। সারাদেশের কাছে তাদের অসম্মান করেছেন। আগামী ভোটে নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁকে সাজা দেবেন। তিনি বলেন, আমি এই জনসভায় আপনাদের চোখ দেখেই ২ মে’র ভোটের ফলাফল দেখতে পাচ্ছি।

