আমাদের ভারত, ১৫ এপ্রিল: “সকালে উঠে সূর্য দেখলাম। নববর্ষের নতুন সূর্য। হে আলোর উৎস, সকলকে ভালো রেখো। ছাদ থেকে নামলাম। স্ত্রী চা দিয়ে বেরোলেন। মঙ্গলচণ্ডীর প্রসাদী ফুল ছুঁইয়ে দিলেন।”
নববর্ষের প্রথম দিনের অনুভূতির কথা এই ভাষাতেই জানালেন প্রাক্তন উপাচার্য তথা ভারতীয় জাদুঘরের অছিপরিষদের সদস্য ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস। তাঁর ভাষায়, “আরেক প্রস্থ চা। ঝুল বারান্দায় বসে শুরু হল ফোন। বয়স্ক আত্মীয় স্বজনকে প্রণাম (মজা করে বলি ‘ফোনাম’– কিন্তু এখন মেনে নিয়েছি) আর ফোন ধরা। জলখাবারে অতিরিক্ত বলতে একটি চমচম।
দুপুরে স্নান করে নতুন পোষাক পরে গুরুজনদের ছবিতে প্রণাম। সব ছবিতে আজ নতুন জুঁইয়ের মালা। আর আমার সরস্বতী প্রণাম। একচিলতে ঘি এক বাটি ভাত, তিন রকম ভাজা, মুগ ডাল আর দই-মাছ, শেষে আমের চাটনি। গিন্নি বললেন আমাদের গাছের। পরে দই।
একটু চিনি দিয়ে ছানা আর মুড়ি। সন্ধ্যে নামলে শ্রীমতি গেলেন হালখাতার নেমন্তন্ন রক্ষায়। রাতে একটা কিছু হবে। ছেলে আর বৌমা ভিডিও কল করবে — মাঝে কত মহাদেশ মহাসমুদ্র! নববর্ষ ১৪২৯ ছড়িয়ে যাবে অনন্তের ঢেউ ভেঙে ভেঙে।”
নববর্ষের ভাবনা প্রসঙ্গে বরিষ্ঠ শিক্ষাবিদ জানিয়েছেন, জবা কুসুম সঙ্কাশ সূর্যকে দেখেই আমাদের বর্ষ শুরু হয়। অতএব গতকাল যারা পান্তা শুঁটকি খেয়ে চৈত্র সংক্রান্তিতেই গাজীর গান গেয়েছেন (আর যাঁরা আমন্ত্রিত হয়ে লুঙ্গি গর্দান হয়ে গোসল করেছেন) তাদের উপর মোঙ্গল-সুধা বর্ষিত হোক।
কেন আমি বাংলাদেশাব্দ-কে বঙ্গাব্দের সঙ্গে মেলাই না, তা লিখেছি, এবারের ‘উদ্বোধন’-এর বৈশাখ সংখ্যায়। এখন লিখি একটু।
১. বাংলাদেশাব্দে দিন বদল হয় রাত বারোটায়। হিন্দু রীতির বারোটা না বাজিয়ে এই অব্দের চলে না। এই মন নিয়ে একই বৃন্তে দুইটি কুসুম এক মায়াবি কৌশল।
২. ওদের প্রথম ছ’মাস ৩০ দিনে, পরের ছ’মাস? ৩১ দিনে! কী কেরদানি! ‘মলমাস’ ওসব থাকার দরকার নেই! চার বছর অন্তর চৈত্র মাসটা ৩২ দিন করে দাও। এর চেয়ে বেশি মাথা ঘামানো কুরুশ-টুপিতে কী দরকার, এমনিতেই তো ‘গরমশির’! বখতিয়ারের দেশ ছিল গরমশির সে কথা জানেন তো!
পঞ্জিকায় মাসের নামগুলো নক্ষত্র-চিহ্নিত। বৈশাখী — বৈশাখ, জ্যেষ্ঠা — জ্যৈষ্ঠ, পূর্বাষাঢ়া — আষাঢ় ইত্যাদি। এইসব উৎকট লোকজনের সঙ্গে মিটিং পয়েন্ট? গোরু-খেকো প্রগতিশীলরা জানেন। আর জানে কমিউনিটি কিচেনে খেয়ে দেয়ে ইফতার পার্টি করে যারা।
৩. গতকাল পুলিশের ঘেরাটোপে ‘বাংলাদেশাব্দ’-এর পহেলা বৈশাখ পালিত হল। কারণ সহি-মুসলমানদের নজরে এই নববর্ষ পালন, বিশেষত রমাদান মাহে, বিলকুল জাহান্নামি কাজ!
সবাই ভালো থাকুন। শুভ হোক রবি প্রদক্ষিণ। শুভ নববর্ষ ১৪২৯

