স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৫ সেপ্টেম্বর: “আদিবাসী উচ্ছেদ কখনোই নয়,” শান্তিপুরে বনদপ্তরের সাথে আদিবাসীদের জমিজট কাটাতে এসে বললেন অনুরাধা তলোয়ার।

শান্তিপুর ব্লকের বাবলা পঞ্চায়েতের অধীন বাহাদুরপুরে বন দপ্তর সম্প্রতি দখলকৃত চাষের জমিতে গাছ লাগাতে গেলে এলাকার আদিবাসী অধ্যুষিত মানুষদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় বনদপ্তরকে। এরপর গত ২৯ আগস্ট বনদপ্তরের কর্মীরা বিরাট পুলিশ বাহিনী নিয়ে ১৩০ বিঘা সরকারি ঘোষিত জমির মধ্যে গাছ লাগাতে গেলে বনকর্মী ও পুলিশদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। বাচ্চা থেকে বুড়ো, পুরুষ থেকে মহিলা সবাই জমি আঁকড়ে ছিলেন। এলাকার মানুষের দাবি, সাত পুরুষ ধরে এই জমির অধিকার আছে তাদের। পুলিশের আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলে সাময়িকভাবে জমি জট মেটানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় ১১৩ টি আদিবাসী পরিবারের মধ্যে ৭৬ জন দাবি করেছেন, তাদের জমি থেকে তারা এক পাও নড়বেন না। বাকিরাও তাদের সঙ্গে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেত মজদুর রাজ্য কমিটির সদস্য অনুরাধা তলোয়ার আজ এসে পৌঁছান সমষ্টি উন্নয়ন অফিসে। তিনি দীর্ঘক্ষণ সবিস্তারে বিষয়টি শোনেন। এরপর সাংবাদিকদের জানান, আদিবাসী উচ্ছেদ কখনোই সম্ভব নয়। আমরা সকলেই জানি জঙ্গল কেটে চাষের জমি তৈরি করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে উল্টো চাষের জমিতে জঙ্গল তৈরি করা হচ্ছে। গ্রামের মানুষদের অহেতুক বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মিথ্যে মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই জমিতে এখনো পর্যন্ত একজন চাষি ১৪৪ ধারা জারি করেছেন, ওখানে চল্লিশটা প্লট আছে এক সপ্তাহের মধ্যে ৪০টা প্লটে ১৪৪ ধারা করার পরামর্শ দিয়েছি। যাতে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে জেলা কোর্টে এ বিষয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। যদি আমাদের পক্ষে রায় না হয় তাহলে আমরা হাইকোর্টে যাব। ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো উচ্ছেদ এমনকি বনদপ্তরের জমিতে ঢুকে কোনো কাজকর্ম করার অধিকার থাকবে না।

এই মর্মে বনদফতরকে আজ বিডিও জানিয়ে দিয়েছেন। যেহেতু বিষয়টি আগেই গ্রাম সভায় পাস করানো ছিল, তাই বনদপ্তর এই জমির অধিকার দেখাতে পারবে না। কারণ গ্রাম সভা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এরপরেও আইনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তর প্রতীক্ষায় থাকবে কৃষকরা। তবে তাদের জমির ফসল বসতবাড়ি কোনটাই নষ্ট করা যাবে না”।

