Womens Commission, Birbhum, পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ জাতীয় মহিলা কমিশনের

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ১০ অক্টোবর: পুলিশের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন অর্চনা মজুমদার। তাঁর দাবি, পুলিশ সক্রিয় থাকলে নাবালিকা ছাত্রীকে খুন হতে হতো না। তাছাড়া ছাত্রীর শরীরের সমস্ত অংশ উদ্ধার না হওয়া সত্ত্বেও তড়িঘড়ি চার্জশিট দেওয়া হলো কাদের খুশি করতে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলে গেলেন অর্চনা মজুমদার।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ আগস্ট গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে বেড়িয়ে আর বাড়ি ফেরেনি শ্যামপাহাড়ি শ্রীরামকৃষ্ণ শিক্ষা পীঠের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি স্কুল সংলগ্ন বারোমেশিয়া গ্রামে। খুনের ২০ দিনের মাথায় ওই স্কুলেরই ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক মনোজ কুমার পালকে গ্রেফতার করে পুলিশ জানতে পারে ছাত্রীকে ধর্ষণের পর কেটে টুকরো টুকরো করে সেচখালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে দেহের একাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পায়ের কোমর থেকে পায়ের দিকের অংশের এখনও খোঁজ মেলেনি। তারমধ্যেই শুধুমাত্র শিক্ষককে একমাত্র অভিযুক্ত করে ২৬ সেপ্টেম্বর চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। দু’ দুবার পুলিশের অনুমতি না পেয়ে আসতে না পারলেও শুক্রবার রামপুরহাট থানার বারোমেশিয়া গ্রামে ছাত্রীর বাড়িতে যান জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন অর্চনা মজুমদার। তিনি ছাত্রীর মা ও বাবার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর পুলিশের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

অর্চনাদেবী বলেন, “বীরভূমে নাবালিকা ধর্ষণ, খুন, পাচার বাড়ছে। ফলে এখানে মনের আনন্দে বাংলার মেয়েরা বাড়ির বাইরে বের হতে পারবে, কিন্তু এখানে নাবালিকাদের কী নিরাপত্তা রয়েছে? পুলিশের ভূমিকায় আমি হতাশ। পুলিশের ভূমিকায় আমরা খুশি নই। নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ ব্যবস্থা নিলে ছাত্রীকে মরতে হত না। পুলিশ সেই সময় অকমন্য ছিল। তাছাড়া এখনও ছাত্রীর হাত পা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ চার্জশিটে লেখা হয়েছে সম্পূর্ণ দেহ উদ্ধার হয়েছে। আমরা মহিলাদের স্বার্থ রক্ষার্থে তদন্ত করব। পুলিশেরও সেটাই কাজ। কিন্তু পুলিশ সঠিক তদন্ত না করে কেন তড়িঘড়ি চার্জশিট দিলেন বুঝতে পারছি না। তাছাড়া একার দ্বারা এই খুন হয়েছে কিনা সেটা নিয়েও ধোঁয়াশা রাখা হয়েছে চার্জশিটে। বিষয়টির আমরা শেষ দেখে ছাড়ব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *