শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ফের ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বন্ধ হয়ে গেল জুট মিল, নফরচাঁদ মিল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৮ নভেম্বর: মালিক শ্রমিক অসন্তোষের জেরে বন্ধ হল কাকিনাড়ার নফরচাঁদ জুটমিল। এই ঘটনার ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ে কয়েক হাজার শ্রমিক।

মূলত এই মিলের স্থায়ী শ্রমিকদের কাজ না দিয়ে ঠিকাদারি শ্রমিকদের কাজ দেওয়ার জন্য স্থায়ী শ্রমিকদের মধ্যে দেখা যায় অসন্তোষ। এই সমস্যার সমাধান করতে চান শ্রমিকরা।নআর যার ফলে শ্রমিকদের একাংশ কাজ বন্ধ করে দিলেন নফর চাঁদ জুট মিলের।
এই গন্ডগোলের জন্য মিলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ব্যপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মিলর গেট চত্বরে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বহু দিন ধরে এই মিলে স্থায়ী শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ পাচ্ছে না। অথচ অস্থায়ী শ্রমিকদের বাইরে থেকে এনে কাজ দেওয়া হচ্ছিল। এতে স্থায়ী শ্রমিকরা ঠিক করে কাজ না পেয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনে নামে। যার জেরেই অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে মিলের উৎপাদন।

নফর চন্দ্র জুট মিলে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা বলেন, “আমাদের স্থায়ী শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছে না। তার বদলে বাইরের অস্থায়ী শ্রমিকদের কাজে নেওয়া হচ্ছে। তাই আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। তাছাড়া মিলে কিছু নতুন যন্ত্র এসেছে যেগুলিতে মিলের পুরনো কর্মীরা কাজ করতে পারছে না আর সেই সুযোগে কর্তৃপক্ষ নতুন অস্থায়ী কর্মীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। আমরা শ্রমিকরা এই সব বিষয় গুলির বিরোধিতা করেছি। আমাদের দাবি যতক্ষণ না মানছে আমরা স্থায়ী কর্মীরা কাজে যোগ দেব না।”

এদিন এই গোটা বিষয় নিয়ে জগদ্দল বিধানসভার বিধায়ক বলেন, “এই মিলে বেশ কিছুদিন ধরে তাঁত বিভাগে স্থায়ী শ্রমিকরা ঠিক করে কাজ পাচ্ছিল না। ফলে একটা অসন্তোষ শুরু হয়েছিল শ্রমিকদের মধ্যে। তারা এই ঘটনার প্রতিবাদ করে কাজ বন্ধ করে দেয়। আমরা মিল কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয়ে কথা বলে মেটানোর চেষ্টা করছি । তাছাড়া এখন জুটের দাম বেড়ে গেছে বাজারে। অন্য দিকে কেন্দ্র সরকার দাম বেধে দিয়েছে ফলে মিল মালিক ও নিজেদের মত দাম বাড়াতে পারছে না। তাই কোনও অজুহাত দেখিয়ে মিলের উৎপাদন বন্ধ করতে চাইছে। কিন্তু আমরা সকাল থেকেই আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করছি। আমরা চাই মিল দ্রুত চালু হয়ে যাক।”

তবে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে মিল চত্বরে এতো উত্তেজনা দেখা দেয় যে মিলে পুলিশ মতায়েন করতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *