আমাদের ভারত, ১ জানুয়ারি: রাজনৈতিক সভায় গিয়ে আর সবাইয়ের সঙ্গে গলা মিলিয়ে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছিল এহসান। কিন্তু এই কারণেই যে তার জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠবে তা ভাবতেও পারেনি সে। আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশী তাকে বয়কট করেছে এই কারণে। এখানেই শেষ নয়, শুধু মাত্র জয় শ্রীরাম ভারতমাতা কি জয় বলার জন্য তাকে খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।
সে ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি শুধুমাত্র জয় শ্রীরাম-ভারতমাতা কি জয় স্লোগান দেওয়ার জন্যই রাতারাতি তার জীবনে অন্ধকার নেমে আসবে। মাত্র২২ বছরের তরুণ এহসান রাওকে শুধুমাত্র এই কারণেই তার পরিবারের লোকজন বয়কট করেছে। এমনকি উত্তরপ্রদেশের এই বাসিন্দাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ফলে তার বাড়ির সামনে সশস্ত্র পাহারা বসিয়েছে পুলিশ।
২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার জীবনটা ছিল অন্যরকম। ঐদিন অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভায় গিয়েছিল সে। সেখানে অন্যান্য মানুষের সঙ্গে গলা মিলিয়ে ভারত মাতা কি জয় জয় শ্রীরাম বলে স্লোগান দেয় মাথায় ফেজ টুপি পরা এহসান। মুহূর্তের মধ্যে সেটি ক্যামেরাবন্দি হয়ে যায়। আর নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায়। আর তাতেই দুর্বিষহ হয়ে যায় তার জীবন। আত্মীয়রা একে একে তার সম্পর্ক ত্যাগ করেছে। ছোটবেলার বন্ধু তার সঙ্গে সম্পর্কে ছেদ করে। তারপর তার দিদি তাকে জানায় যে দিদির শ্বশুরবাড়ির লোকজন চান না তাদের বাড়ির বউ এমন ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন। এরপর এহসানের সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টানে তার প্রেমিকা। এক সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে বলতে গিয়ে এহসান জানিয়েছেন, “আমার সঙ্গে একটি মেয়ের প্রেম ছিল কিন্তু সে আজ আমার সঙ্গে কথা বলে না। আমি ওকে হারাতে চাই না। কিন্তু ওর বাবা-মা ও চান না ও আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখুক।”
আত্মীয়-স্বজনের এই আচরণের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে খুনের হুমকি ও সামাজিক বয়কট। এহসান বলেছেন, “আমি সভার পরিবেশে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। তাই জয় শ্রীরাম বলে ফেলেছি। বুঝতে পারিনি কেউ সেটা রেকর্ড করে রাখছে।” কিন্তু তার প্রশ্ন, নিজের জীবনকে নিজের মত চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা কেন থাকবে না তার? তার এই প্রশ্নের উত্তর তিনি পাননি বরং তার বাড়ির সামনে পুলিশের পাহারা বসিয়েছে। প্রতিদিন প্রাণহানির সংশয় নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে এই উত্তরপ্রদেশে মুসলিম তরুণ।

