জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ২৪ সেপ্টম্বর:
ইনজেকশন দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি একাধিক শিশু। আর তাতেই আতঙ্ক ছড়ালো গোটা হাসপাতালে। বেগতিক বুঝে হাসপাতাল থেকে ছুটি নেওয়ার হিড়িক রোগীর পরিবারের। চিকিৎসায় গাফিলাতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ পরিবারের। শুক্রবার এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে নামে বিশাল পুলিশ বাহিনী। খবর পেয়ে তদন্তে জেলা স্বস্থ্যদফতরের বিশেষ শিশু বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল।
ঘটনায় জানা গেছে, বৃহঃস্পতিবার পর্যন্ত দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ১৩ জন শিশু জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়। হাসপাতালে শিশু বিভাগে ৩৬ শয্যা রয়েছে। জ্বর ছাড়াও অন্য কারণে বহু শিশু ভর্তি আছে। সব মিলিয়ে ভর্তি রয়েছে ৫২ জন শিশু। শুক্রবার জ্বরে চিকিৎসাধীন কিছু শিশুদের প্রয়োজনীয় ইনজেকশন দেওয়া হয়। তার ঘন্টাখানেক পর ৩ জন শিশুর আচমকা জ্বর ও কাঁপুনি শুরু হয় বলে অভিযোগ। আর তাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা হাসপাতালে।
আর সেসব দেখে শিশুর পরিবারের লোকজন শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করে। আতঙ্কে শিশুর পরিবাররা হাসপাতাল সুপার ও কর্তৃপক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করে দেয়। অভিযোগ চিকিৎসায় গাফিলাতির কারনে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা হাসপাতালে। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশকে ঘিরে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিশুর পরিবার পরিজনরা। প্রশ্ন, কি এমন ইন্জেকশন যা দেওয়ার পর আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ল শিশুরা?

দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ ধীমান মন্ডল বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি। ইঞ্জেকশনের প্রতিক্রিয়া হয়েছে। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞরা দেখছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক।” পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস বলেন, “খবর পেয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলাম। ১৩ জন শিশু গতকাল পর্যন্ত জ্বর নিয়ে ভর্তি ছিল। তাদের সাধারন ডোজ দেওয়া হয়। তাতে ৩ জনের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসায় আতঙ্ক ছড়ায়। তবে আতঙ্কের কিছু নেই। বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। অন্য ৩ শিশুকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। বিভ্রান্তিতে ৭ জন শিশুকে পরিবারের লোক ছুটি করে নিয়ে গেছে। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক।”

