আমাদের ভারত, ১৫ অক্টোবর:দুর্বলতাই ভয়ের জন্ম দেয়। শক্তি, জ্ঞান এবং সংগঠিত সমাজকেই সারা দুনিয়া মেনে চলে। সত্য ও শান্তির আধার শক্তি। সচেতন, সংগঠিত এবং শক্তিশালী সক্রিয় হিন্দু সমাজ সব সমস্যার সমাধানের সক্ষম। বিজয় দশমী উপলক্ষে সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত এভাবেই হিন্দুদের সংগঠিত এবং শক্তিশালী হবার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের ও হিন্দু সমাজের উন্নয়নের স্বার্থে।
মোহন ভাগবত বলেন, দেশে ইচ্ছাকৃতভাবে অরাজকতার পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। কিছু কট্টরপন্থী মানুষ দেশকে ভাগ করার চেষ্টা করছে। আর সেই জন্যেই হিন্দুদের শক্তিশালী, সংগঠিত ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এটাই দেশের সমস্ত সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ বলে তিনি মনে করেন।
সংঘ প্রধান বলেন, বর্তমানে হিন্দুদের মন্দিরের জমি জবরদখলের চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই প্রয়োজন হিন্দু মন্দিরগুলির সঞ্চালনার দায়িত্ব হিন্দু ভক্তদের হাতেই থাকা উচিৎ। এছাড়াও হিন্দু মন্দিরের সম্পত্তি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়নে কাজ ব্যবহার করা উচিত। আর এই কাজ করার জন্য আমাদের সব রকমের ভয় থেকে মুক্ত হতে হবে। দুর্বলতাই ভয়ের জন্ম দেয়। শক্তিশালী ও সংগঠিত সমাজকে দুনিয়া মেনে চলে। সত্য ও শান্তি আসলে নির্ভর করে শক্তির উপরেই। এক নির্ভিক সংগঠিত হিন্দুসমাজ তৈরির করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে সচেতন, সংগঠিত ও শক্তিশালী সক্রিয় হিন্দু সমাজ সমস্ত ধরণের সমস্যার সমাধানে সক্ষম।
অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের কারণেই জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। মূলত সীমান্তবর্তী রাজ্যে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এদের কারণেই। তাই জনসংখ্যা নীতি নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা করা শুরু করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। ভাগবত বলেন, ১৯৫১-২০১১ মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হারের পরিসংখ্যান যদি লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখা যাবে, ভারতে উদ্ভুত ধর্মের অনুসরণকারীদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৮৮ শতাংশ থেকে কমে ৮৩.৮ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু সেখানে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধির অনুপাত ৯.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.২৩ শতাংশ হয়েছে। আর সেই কারণে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবি তূলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, সরকারকে নতুন করে জনসংখ্যা নীতি তৈরি করতে হবে এবং তা সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর সমান ভাবে লাগু করতে হবে। এছাড়াও তিনি বলেন, এনআরসির মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের আসল পরিচয় খুঁজে বার করে আনতে হবে।
এছাড়াও তিনি নাম না করে ওটিটি প্লাটফর্ম ও বিট কয়েনের মতো ডিজিটাল প্লাটফর্মের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ অতন্ত সঠিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে তিনি বলেন, এর ফলে আমজনতার লাভ হয়েছে। এর ফলে সন্ত্রাস দমনের কাজ সেখানে সুচারু হয়েছে। আর সেই কারণেই জঙ্গিরা মানুষের মনোবল ভাঙতে নব্বইয়ের দশকের মত টার্গেট কিলিং শুরু করেছে। কিন্তু তিনি মনে করেন, কাশ্মীরের মানুষ এবার আর ভয় পাবে না। সুরক্ষা ও শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার দাবি করেছেন তিনি।
দেশের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে উচ্চ থেকে নিম্নবিত্ত সমস্ত সম্প্রদায়ের যুব সমাজের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা বেড়েছে। এই মাদকের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে করোনার মতো অতিমারির কারণে অনলাইনে পড়াশোনা প্রবণতা বেড়েছে। শিশু থেকে যুবদের হাতে মোবাইল রয়েছে। ফলে ওটিটি প্লাটফর্মের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
করোনার বিরুদ্ধে ভারত অত্যন্ত ভালোভাবে লড়াই করেছে বলে তাঁর মত। প্রথম ঢেউতে তেমন কোনও প্রভাব না ফেললেও দ্বিতীয় ঢেউ বহু মানুষকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংঘের তরফ গ্রামে গ্রামে যুবকদের প্রশিক্ষিত করা হয়েছে কিভাবে তৃতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলা করা যাবে।
ভাগবত বলেন, দেশে অরাজক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এক রাজ্য আরেক রাজ্যের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এক রাজ্যের পুলিশ আরএক রাজ্য পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। অথচ দেশকে সংগঠিত রাখতে রাজ্যগুলির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দরকার। উৎসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পর্ক দৃঢ় করা প্রয়োজন।

