দিদির তৃণমূল কুল নয় বাঙলার মানুষের জন্য শূল: মোদী

আমাদের ভারত, ১ এপ্রিল: দ্বিতীয় দফার ভোটে নন্দীগ্রামের বয়াল যখন উত্তাল তখন দক্ষিণ পরগণার জয়নগরে ভোট প্রচার সারছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতি দফা ভোটের আগেই রাজ্যে বার বার প্রচারে এসেছেন প্রধানমন্ত্র। তৃতীয় দফার ভোটের আগে প্রচারে এসে জোরের সঙ্গেই তিনি বললেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তন আনবেই। ২০০ বেশি আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। মানুষ তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করবে।

অন্যান্য জনসভার মতো এদিনও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছেন। এদিনও প্রধানমন্ত্রী নিশানার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদী বলেছেন “দিদির তৃণমূল কুল নয় বাংলার মানুষের জন্য শূল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলায় পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের মানুষও সেই কাজ আজ করছেন। প্রথম দফায় শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে বিজেপিকে প্রচুর মানুষ ভোট দিয়েছে। শাহের মতো এবার মোদীও দাবি করেছেন বাংলায় এবার বিজেপি ২০০ বেশি আসনে জিতবে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফা প্রচুর মানুষ ভোট দিচ্ছেন আর চারিদিকে বিজেপির ঢেউ উঠেছে।

মোদী কটাক্ষ করে বলেন, বাংলায় এত অত্যাচারের পরেও দিদির মুখে এখন ওম ওম শোনা যাচ্ছে। ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল বলে তৃণমূল যে স্লোগান দেয় সেই স্লোগানকে কটাক্ষ করে মোদী বলেন,” দিদির তৃণমূল কুল নয়, বাংলার মানুষের জন্য শূল।

এদিন মোদী হুঙ্কার দিয়ে বলেন বাংলার ভাই-বোনদের হত্যার হিসেব দিদিকে দিতেই হবে। আর এই রক্তের খেলা, অত্যাচারের খেলা, ভ্রষ্টাচারের খেলা চলবে না।” মোদী বলেন, প্রথম দফার ভোটের পরে আরো বেশি খেপে উঠেছেন দিদি। ইভিএমকে গালাগালি করেছেন, নির্বাচন কমিশনকেও লাগাতার দোষারোপ করছেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরেই তিনি অনেক নেতাকে চিঠি লিখে সাহায্য চেয়েছেন, যারা বহিরাগত তাদের কাছ থেকে সাহায্য চেয়েছেন দিদি।

শেষ কয়েক দিনের প্রচারে দেখা গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাগল, স্ক্র ঢিলা ইত্যদি বলে আক্রমণ করেছেন। আজ সেই বিষয়টি তুলে ধরে মোদী বলেন, দিদি আপনার ব্যবহার, আপনার শব্দ আজ বাংলার মানুষের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি বাংলার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

মোদী বলেন, “ভোটের জন্য কাউকে খুশি করার প্রয়োজন হলে করুন, আমাকে গালি দেওয়ার হলে দিন কিন্তু বাংলার মানুষের আস্থা রামকৃষ্ণ পরমহংস, চৈতন্যদেবের পরিচয়কে গালি দিতে আপনাকে আর আমরা দেবো না।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে আবারও তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মমতা দিদির জয় শ্রীরাম আওয়াজে আপত্তি, দুর্গাপুজোর বিসর্জনে আপত্তি। তিনি মমতার বিরুদ্ধে সংবিধানকে অপমান করার অভিযোগ তুলে বলেন, উত্তরপ্রদেশ, বিহার সহ অন্য রাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে যে ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলছেন তাতে ওঁর রাজনৈতিক উপলব্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এভাবে দিদি কাউকে গালি দিতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একের পর এক গালি আমাকে দিয়েছেন, দিন, কিন্তু দেশের সংবিধানকে অপমান করবেন না।

মোদী বলেন, আমি যা করি তাতেই দিদির আপত্তি। বাংলাদেশে গিয়ে যশরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিয়েছি, ওড়াকান্দিতে গিয়ে দেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ নিয়েছি তাতেও দিদির আপত্তি। মোদী অভিযোগ করেন, দিদির সমস্যা গোটা বাংলার মানুষ জানে। অনুপ্রবেশকারীদের খুশি করতেই বাংলার মানুষকে তিনি ভুলে গেছেন। ১০ বছর ধরে উন্নয়নের পরিবর্তে তিনি কি করেছেন তার জবাব এখন দিদির কাছে নেই। মোদী বলেন আমফানের জন্য কেন্দ্র সরকারের পাঠানো টাকা গরিব মানুষের পরিবর্তে তৃণমূলের কার্যালয় গিয়ে পৌঁছেছে। আর তৃণমূল বলছে খেলা হবে। এই বাংলায় খেলার মাঠ ছিল, খেলার মাঠ আছে আর খেলার মাঠ থাকবে। বিজেপির জন্য বাংলা উন্নয়নের মাঠ হয়ে উঠবে শিক্ষার মাঠ।

মোদী অভিযোগ করে বলেন, বাংলা কৃষকদের সঙ্গে দিদির শত্রুতা করেছেন। আর সেই জন্যই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত রেখেছেন দিদি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন‌ ২মে পর বিজেপি ক্ষমতায় এলেই প্রত্যেক কৃষক কেন্দ্রের প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, প্রত্যেকের একাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছাবে। মৎস্যজীবীরাও টাকা পাবেন। প্রতিটি এলাকার স্থানীয় শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার‌ কাজ করবে বিজেপি সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *