আমাদের ভারত, ১৪ জুন: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করার দিকে পদক্ষেপ করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগুর বিষয়ে জনমত গ্রহণ করতে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার।
বুধবার সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে মতামত জানাতে হবে নাগরিক সহ সরকারি সিলমোহর প্রাপ্ত ধর্মীয় সংগঠনগুলিকে। বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, সন্তান দত্তক নেওয়া, সম্পত্তির উত্তরাধিকার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এক দেশ, এক ধর্ম, এক জাতি নির্বিশেষে আইন-কানুন রয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে দেশের সমস্ত নাগরিককে সেই একই আইন মেনে চলতে হবে। নয়ের দশক থেকেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর প্রস্তাব দিয়ে এসেছে বিজেপি। তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারেও জায়গা পেয়েছে বিষয়টি। বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে এই বিধি চালুর প্রস্তাব উঠেছে কিন্তু আজও কার্যকর করা যায়নি এই বিধি।
২০২৪- এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তাই আবারও একবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে তৎপর হলো কেন্দ্র। জনতার মনে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে কী ভাবনা রয়েছে তাদের কী মতামত তা জানতে তৎপর হয়েছে ২২ তম আইন কমিশন। সরকারি সীলমোহর প্রাপ্ত ধর্মীয় সংগঠনগুলির মতামত গ্রহণ করা হবে। তার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এখন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে মতামত জানাতে পারবে আগ্রহী নাগরিক এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলি। তার জন্য আইন কমিশনের ওয়েবসাইট lic @gov.in এ গিয়ে ক্লিক হেয়ার অপশন বেছে নিতে হবে।
The 22nd Law Commission of India decided again to solicit views and ideas of the public at large and recognized religious organizations about the Uniform Civil Code. Those who are interested and willing may present their views within a period of 30 days from the date of Notice… pic.twitter.com/s9ZV9WqKU4
— ANI (@ANI) June 14, 2023
বুধবার আইন কমিশনের তরফে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে এর আগে ২১তম আইন কমিশন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সব পক্ষের মতামত জানতে চেয়ে ২০১৬ সালের ৭ই অক্টোবর একটি প্রশ্নমালা প্রকাশ করেছিল। এরপর ২০১৮ সালের ১৯শে মার্চ ২০১৮ সালের ২৭ মার্চ এবং ২০১৮ সালের ১০ই এপ্রিল মতামত জানতে চাওয়া হয়।
আইন কমিশন জানিয়েছে, সেই সময় ব্যাপক সাড়া মিলেছিল। তার ভিত্তিতে ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট পরিবার আইন সংশোধন ঘটাতে পরামর্শ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে ২১ তম আইন কমিশন। কিন্তু তারপর তিন বছর কেটে গেছে। এ বিষয়ে দেশের একাধিক আদালত থেকে যে নির্দেশ গুলো সামনে এসেছে তাকে সামনে রেখে নতুন করে এই নিয়ে মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে।

