আমাদের ভারত, ৩০ মার্চ: বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামে ভোট। তার আগে মঙ্গলবার শেষ ভোট প্রচারে সরগরম হয়ে উঠেছিল নন্দীগ্রাম। এর মধ্যেই দুপুরে ভুতার মোরে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জির মিছিলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠল।
জানা গেছে, বেলা তিনটে নাগাদ মিছিল করে সোনাচূড়া থেকে এগোচ্ছিলেন সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জি। সেখানে মীনাক্ষীর সঙ্গে ছিলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। তাদের গাড়ির কনভয় যাওয়ার সময় আচমকাই কিছু লোক সেখানে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। গাড়িগুলোতে ভাঙচুর করার চেষ্টা করেন তারা। চুড়ান্ত ধাক্কাধাক্কিতে আহত হয়েছেন সিপিএমের পাঁচজন। মীনাক্ষী অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের মদতেই এই হামলা হয়েছে।
মীনাক্ষী বলেন, “এভাবে বামপন্থীদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। গত পরশু আমাকে হেনস্তা চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ প্রশাসন নির্বিকার। আর সেই কারণেই এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। আজ তৃনমূলে আমাদের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। আমাদের ৫ জন কর্মী জখম হয়েছে।এই সন্ত্রাস আবারও হবে বলে আমাদের আশঙ্কা।”
মীনাক্ষীর এই অভিযোগকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে তৃণমূল। দলের ব্লক সহ সভাপতি পরেশ দাস বলেন, “আমাদের কোনো কর্মী সমর্থক এই কাজের সাথে জড়িত নয়। সংযুক্ত মোর্চার মিছিলে কারা হামলা করেছে তা আমরা বলতে পারব না। এ ঘটনার সঙ্গে বিজেপির যোগ থাকতে করতে পারে।”
পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন।
১ এপ্রিল ভোট। তাই মঙ্গলবার শেষ হলো নন্দীগ্রামের ভোট প্রচার। মমতা ও শুভেন্দুর দ্বৈরথ প্রেস্টিজ ফাইট এবার নন্দীগ্রামে। কিন্তু তাদের সঙ্গেই লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জিও। মমতা বা শুভেন্দু মতো বড় বড় খরচ সাপেক্ষ রোড শো বা সভা করতে তাকে দেখা যায়নি। তবে একবারে পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি, মোরে মোরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিরবিচ্ছিন্ন জনসংযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন ডিওয়াইএফআই এর রাজ্যস্তরের এই নেত্রী। বাধাও পেয়েছেন মীনাক্ষী। সংবাদমাধ্যম দেখা গেছে তিনি প্রচারে গিয়ে বাধা পেয়েছেন, হুঁশিয়ারি পেয়েছেন, হেনস্থা করা হয়েছে তাকে। প্রতিবাদে অবস্থান করেছেন মীনাক্ষী। তবু প্রচার চালিয়ে গেছেন।
মঙ্গলবার শেষভোট প্রচারে উত্তপ্ত ছিল নন্দীগ্রাম। একধারে শুভেন্দু সমর্থনে রোগ শো করেছেন অমিত শাহ মিঠুন চক্রবর্তী। অন্যদিকে একাধিক সভা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। একই সঙ্গে প্রচারের ঝড় তুলেছেন মীনাক্ষীও।

