জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৭ সেপ্টেম্বর: সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সাহায্যের জন্য সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জেলাশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
জেলাশাসককে উদ্দেশ্য করে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে আপনি অবগত যে, পশ্চিম মেদিনীপুর আবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সাম্প্রতিক একটানা বৃষ্টির জেরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল, পিংলা, সবংয়ের বিভিন্ন এলাকা নতুন করে জলবন্দি। গত দেড়মাসের মধ্যে ফের বিপর্যয়। এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। আপনি জানেন, করোনার আশঙ্কা এখনও কাটেনি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জ্বরের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে জলবন্দি হয়ে, জেলার ৫-টি ব্লকের লক্ষাধিক মানুষ অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্মারকলিপিতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা যুব কংগ্রেস দাবি জানিয়েছে,
১) অতিবৃষ্টির জেরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক প্লাবন পরিস্থিতিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
২) ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেককে অতি সত্ত্বর সরকারি আর্থিক সাহায্য করতে হবে।
৩) প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের (ধান, আলু, পান, পাট এবং মৎস্যচাষি) ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করে, ১৫ দিনের মধ্যে আর্থিক সাহায্য করতে হবে।
৪) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (মাদুর, ঝাঁটা, বিড়ি-সহ অন্যান্য) শ্রমিকদের ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করে, ১৫ দিনের মধ্যে আর্থিক সাহায্য করতে হবে।
৫) ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ব্যাঙ্কের ঋণগ্রহীতা থাকলে, নথি যাচাই করে, পর্যাপ্ত সাহায্য করতে হবে।
৬) দ্রুততার সঙ্গে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান-সহ বন্যা প্রতিরোধে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত গ্রহণ করা দরকার তা করতে হবে।
যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ একের পর এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের তাই উচিত, এই সঙ্কটের মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমাদের দাবি সম্পূর্ণ যুক্তিপূর্ণ এবং জনগণের কথা ভেবে প্রশাসনও তাতে সহমত হবে, এই আশা রাখি।সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনওরকম প্রশাসনিক উদাসীনতা ঘটলে, সাধারণ মানুষের সমর্থনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা যুব কংগ্রেস বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

