আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৮ মার্চ:
“রাজনীতি আমার পেশা নয়, আমি একজন চিকিৎসক, হতভাগ্য পিতা। আমার রাজনীতিতে আসার প্রথম কারন ছেলের খুনিদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। আমি মণীশের অপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে চাই। ব্যারাকপুরে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের পাশে থাকতে চাই।” বিধানসভা ভোটে বিজেপির কাছ থেকে টিকিট পেয়ে নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় একথাই বললেন নিহত বিজেপি যুব নেতা মণীশ শুক্লার বাবা চন্দ্রমণি শুক্ল। ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়বেন তিনি। ভারতীয় জনতা পার্টি তাঁকে টিকিট দিয়েছে। নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের এই প্রতিক্রিয়াই দিলেন চন্দ্রমণি শুক্লা।
গত ৪ অক্টোবর একদল দুষ্কৃতী টিটাগড় থানার সামনে একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার উপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা করলে সেই হামলায় গুলিবিদ্ধ হন বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা এবং গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনার পর উতপ্ত হয়ে ওঠে গোটা ব্যারাকপুর, টিটাগড় এলাকা। বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয় দোষারোপ পাল্টা দোষারোপের পালা। ইতিমধ্যেই মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনার তদন্ত করছে সি আই ডি। এই খুনের ঘটনায় প্রেপ্তারও করা হয়েছে ১০জন দুষ্কৃতীকে।
মণীশ শুক্লা খুনের পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁর বাবা মার সাথে দেখাও করে গেছেন বেশ কয়েকবার। তারপর থেকেই বিজেপির টিকিটে মণীশ শুক্লার বাবা বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন বলে জল্পনা ছিল রাজনৈতিক মহলে। বৃহস্পতিবার নিহত বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার বাবা চন্দ্রমণি শুক্লার নাম ঘোষনা হতেই মণীশ শুক্লা অনুগামীরা ভিড় করতে থাকেন মণীশ শুক্লার বাড়িতে। এদিন প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী স্বচ্ছ ভাবমূর্তির চিকিৎসক চন্দ্রমনি শুক্লা বলেন, “আমি ডাক্তার মানুষ আমার কাজ মানুষের চিকিৎসা করা। কিন্তু আমি বাধ্য হয়েছি রাজনীতিতে আসতে। আমার রাজনীতিতে আসার কয়েকটি উদ্দেশ্য আছে।
আমার ছেলে মনীশকে যারা হত্যা করেছে তাদের শাস্তি দিতে আমার রাজনীতিতে আসা। আমার ছেলে মনীশ ব্যারাকপুর ও টিটাগরের মানুষদের জন্য অনেক সামাজিক কাজ করত। আমিও রাজনীতিতে এসেছি ব্যারাকপুর ও টিটাগরের মানুষদের সেবা করতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে। আমি আশাবাদী যে আমি জিতবো। কিন্তু এখন দেখার ব্যারাকপুর ও টিটাগরের মানুষ কি একজন সিনেমার ডাইরেক্টরকে বেছে নেয় না একজন হতভাগ্য পিতা ডাক্তারকে তাদের পাশে সর্বক্ষণের সঙ্গী হিসেবে পেতে চান।”

