“মমতাকে খুনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল নন্দীগ্রামে”, কমিশনের কাছে তৃণমূল

রাজেন রায়, কলকাতা, ১১ মার্চ: দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত হওয়ার পর আজ সকাল থেকে ঘটনার প্রতিবাদে জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। উত্তর ২৪ পরগনাতে ও খড়দহে বিক্ষোভ দেখায় মদন মিত্র এবং তার অনুগামীরা। আর এবার খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাল তৃণমূল।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেই খুন করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। আর যা ঘটেছে তা থেকে কমিশন তাঁর দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়া পর থেকে পুলিশকে যেভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে, যেভাবে কমিশন পুলিশের এডিজিকে(আইন শৃঙ্খলা) অপসারিত করল, যেভাবে ডিজিকে অপসারিত করলো তার পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আক্রমণের দায়ভার কে নেবে? আক্রমণ যে হতে পারে সেটা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কমিশন। কেন এমন হল তা কমিশনকে যথাযথ তদন্ত করে জানাতে হবে। কার্যত গোটা বিষয়টিকে ঘিরে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে এদিন এই ভাষাতেই নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জমা দিল তৃণমূল কংগ্রেস।

গতকাল সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রচারে বেড়িয়ে আহত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনার জেরে এদিন চক্রান্তের অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দ্বারস্থ হল তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল। পরে সেই প্রতিনিধিদলের তরফে সাংবাদিকদের তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, “এই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সুষ্ঠুভাবে, সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রেখে কাজ করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করার পরে পরেই কমিশন পুলিশের এডিজিকে অপসারিত করল। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হতেই রাজ্য পুলিশের ডিজিকে অপসারিত করা হল। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর উপর আক্রমণের পূর্বাভাস আগে থেকেই ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এভাবে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলে দেওয়া হল আর তাঁর ওপরে যে আক্রমণ হল সেই দায়িত্ব কার? কে সেই দায়িত্ব নেবে?’

এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কমিশনে গিয়েছেন ডেরেক ও ব্রায়েন ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। সাংবাদিকদের ডেরেক বলেন, ‘নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব কমিশনের। জেড ক্যাটাগরি প্রাপ্ত একজনের উপর এধরনের ঘটনা ঘটল। এটা রাষ্ট্রপতি শাসন নয়। কোনও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও নয়। তা সত্ত্বেও কেন এটা হল তা কমিশনকে দেখতে হবে। সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা নিজেরা আগে গিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আসুন। নিজেদের চিকিৎসা আগে করান। বিজেপির বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপে দাবিই করা হয়েছিল ১০ তারিখ বিকাল ৫টার পর যা হওয়ার তা হবে। আর মুখ্যমন্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সন্ধ্যা ৬টার সময়ে। এটা পরিষ্কার কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *