রাজেন রায়, কলকাতা, ১৮ এপ্রিল: রাজ্যের করেনা পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। বাড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যু। কিন্তু আকাল করোনা ভ্যাকসিনের ওষুধের। এই পরিস্থিতিতে রবিবার সকালে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছ থেকে জানতে চান, করোনা সতর্কতায় কী কী ব্যবস্থা বা উদ্যোগ নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন। তারপরেই যেন টনক নড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি চিঠি লিখে এবার ভ্যাকসিন চেয়ে পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।
ভোট ঘোষণার ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কেন্দ্রের কাছ থেকে করোনা ভ্যাকসিন কিনে আমজনতাকে তা বিনামূল্যে দিতে চায় রাজ্য। কিন্তু তৃণমূল সরকারের সেই প্রস্তাবে এখনও সায় দেয়নি কেন্দ্র। এরই মধ্যে রাজ্যে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাই পরিস্থিতি বুঝে দায় এড়ানোর কৌশল নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আঙুল তুলে দিলেন নির্বাচনী প্রচারে রাজ্যে আসা বহিরাগতদের দিকে। আর ভ্যাকসিন না পাওয়ার দায় চাপিয়ে দিলেন কেন্দ্রের ঘাড়ে।
মোদীকে লেখা চিঠিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিনের আকালের কথা বলেছেন মমতা। তিনি পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন পাঠানোর দাবি তুলেছেন। কিন্তু করোনা নিয়ে রাজনীতি চান না আমজনতা। চান না চিকিৎসকরাও। তবে পরিস্থিতিই উসকে দিচ্ছে গত বছরের করোনাকালের সময়টার স্মৃতিটাকে। করোনার শুরুতেই দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লকডাউন সমস্যার সমাধান নয়, সমাধানের পথে, এগিয়ে চলার পথে একটা ধাপ। লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ঘরবন্দি করা নয়, মানুষকে কিছুদিনের জন্য ঘরবন্দি রেখে ভাইরাসের মোকাবিলায় প্রস্তুতি গড়ে তোলা। কিন্তু অভিযোগ, লকডাউনের সময় এরাজ্যে আমজনতাকে যথাযথভাবে ঘরবন্দি করার উদ্যোগ নেয়নি রাজ্য। নেয়নি পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ।
মুখ্যমন্ত্রী কার্যত ব্যস্ত থেকেছেন নিজেকে প্রচারের আলোয় রাখতে। তিনি লকডাউন ভেঙে জমায়েত করেছেন, ত্রাণ বিলির নামে রাজনীতি করেছেন। সরকারের সাফল্য জাহির করতে করোনায় মৃত্যু সংখ্যা, আক্রান্তের সংখ্যা কম করে দেখিয়েছেন। অন্যরকম তথ্য দেওয়ায় স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আমলাকে সরিয়ে দিয়েছেন। স্পষ্ট, মমতার নিশানায় বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু চাল চুরি, ত্রিপল চুরির পর মমতার দল ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে টিকা চুরিরও অভিযোগ উঠেছে। উঠছে কালোবাজারির অভিযোগ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এতদিন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী এখন নিচ্ছেন দায় এড়ানোর কৌশল। করছেন ফের নবান্নে পা রাখার রাজনীতি, অভিমত রাজনৈতিক মহলের।

