সিপিএম–অধিকারী পরিবারের আঁতাতের কারণেই নন্দীগ্রাম মামলায় গদ্দাদের নামে কেস হয়নি: মমতা

আমাদের রভারত, ২৯ মার্চ:নন্দীগ্রামে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে আরও একধাপ সুর চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার শুধু অধিকারী পরিবার নয়, তার সঙ্গে সিপিআইএমকে জুড়ে দিলেন। সোমবার ঠাকুরচক সভা থেকে তিনি বলেন, একা অধিকারী পরিবার নয়, ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে গুলি চলেছিল সিপিআইএম অধিকারী পরিবারের যোগসাজশে। আর সেই জন্যেই অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। সিপিআইএম কোনও মামলা করেনি।

রবিবার রেয়াপাড়ায় ২০০৭ এর ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামের পুলিশ ঢোকা নিয়ে অধিকারী পরিবারকে একেবারে কাঠগড়ায় তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি রবিবার বলেছিলেন “যারা গুলি চালিয়েছিল তাদের মনে আছে, সেদিন পুলিশের ড্রেস পড়ে এসেছিল, মনে আছে হাওয়াই চটি পরে এসেছিল বলে ধরা পড়ে গিয়েছিল। এবারেও সেসব কেলেঙ্কারি করছে। অনেক বিএসএফ, সিআইএসএফের ড্রেসট্রেস কিনেছে। যারা এসব করে তারা জানে। বাপ-বেটার পারমিশন ছাড়া সেদিন নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢুকতে পারত না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় ওঠে। পালটা জবাবে শিশির অধিকারী বলেন, “সবটাই মমতার পরিকল্পনা ছিল, তাই তো সেদিন যে পুলিশ অফিসাররা গুলি চালিয়েছিল তাদের তিনি উঁচু উঁচু পদে নিয়োগ করেছিলেন। তিনি মিথ্যে বলছেন। তিনি পাগলের প্রলাপ আওড়াচ্ছেন।”

এরপর সোমবার ঠাকুরচকের সভা থেকে নন্দীগ্রাম আন্দোলন সেই সংক্রান্ত মামলা নিয়ে সিপিআইএম এবং অধিকারী পরিবারের মধ্যে আঁতাঁতের যোগ অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী বলেন, নন্দীগ্রামে ভূমি আন্দোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেস হয় সেই কেসে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। পরে ওরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে কেস শুরু করে। এখন সুপ্রিম কোর্টে কেস চলছে। একমাত্র অধিকারী পরিবারের নামে কোনও কেস নেই, কেন? সবার বিরুদ্ধে সিপিআইএম কেস দিলেও গদ্দারদের বিরুদ্ধে দেয়নি কেন? এর ব্যাখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, “সেদিন সিপিআইএমকে ডেকে আনে শুভেন্দু। পুলিশকেও ডেকে আনে শুভেন্দু। আর ঘরে ঢুকে বসে ছিলেন বাপ-বেটা। সব ঠান্ডা হয়ে গেলে, তার ১৫ দিন পর বের হয়। কিছুই নাকি করেননি ওরা। তাই ওদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।”

মমতা আরো বলেন, “যারা সেদিন খুন করল সিপিএমের হার্মাদরা আজকে বিজেপিতে। আর গদ্দার, যারা গণহত্যা করল তাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। “একইসঙ্গে এবারের ভোটে বিজেপি পুলিশের পোশাক পরে ভয় দেখাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “ভোটের দিন ভয় দেখাবে বিজেপি। পুলিশের পোশাক পরে ভয় দেখাবে। আমার কাছে খবর আছে। বিজেপি পুলিশের পোশাক কিনেছে। ওরা ভয় দেখিয়ে গ্রাম থেকে বের হতে দেবে না। আমি বলছি ভয় পাবেন না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *