আমাদের ভারত, ২ এপ্রিল: নন্দীগ্রামের ভোট চলাকালীনই বয়ালে বুথের সামনে বসেই তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন তাঁর জয় নিশ্চিত। এরপর শুক্রবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের দিনহাটা এবং আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার সভা থেকেও একই কথা বলেছেন তিনি। তবে তিনি একা জিতলেই তো হবে না। “সরকার গঠন করতে অন্তত আরো ১৯৯ জন ঘাসফুল প্রার্থীকে জিততে হবে।” তাই ঘাসফুলের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নন্দীগ্রাম আসনে নিজের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত দুজনেই। শুভেন্দুর মতো ভোটের দিন বয়ালের সাত নম্বর বুথ থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন তাঁর জয় নিশ্চিত। এরপর আজ উত্তরবঙ্গের ফালাকাটা এবং দিনহাটার সভা থেকেও একই দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূলের আরো অন্তত ১৯৯ জন প্রার্থীকেও জেতানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কারণ তা না হলে সরকার গঠন করতে পারবে না তৃণমূল। তিনি বলেন,”ফাঁকা আওয়াজ দিচ্ছে বিজেপি। আমি নন্দীগ্রামে ভালোভাবেই জিতবো। কিন্তু আমি একা জিতলে চলবে না। বাকি তৃণমূল প্রার্থীদেরও জিততে হবে”।
একইসঙ্গে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, “গতকাল নন্দীগ্রামে দেখেছি কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপট। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী ভয় দেখাতে শুরু করে। এইসবকে গুরুত্ব দেবেন না।
এদিন ফের মমতা অভিযোগ করেন, টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে বিজেপি। তিনি বলেন, লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে প্রচুর আসন পেয়েছিল। কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতি তারা পালন করেনি। এবারও টাকা দিচ্ছে অনেকে প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে। কিন্তু আসলে কিছুই দেবে না। তাই টাকা দিতে চাইলে আগে ১৫ লক্ষ টাকা চেয়ে নিন।” মানুষের উদ্দেশ্যে তার বক্তব্য, এমন খেলা খেলুন বিজেপিকে একেবারে মাঠের বাইরে বের করে দিন। তাঁর অভিযোগ, অমিত শাহের নির্দেশেই চলছে নির্বাচন কমিশন।
এদিন তৃণমূলের অফিশিয়াল পেজ থেকে বিজেপিকে নিশানা করা হয়েছে। টুইট বার্তায় লেখা হয়েছে, “দিদি নন্দীগ্রাম থেকেই জিতছেন। তাই অন্য কোনও আসন থেকে তাঁর লড়াই এর প্রশ্ন ওঠে না।” পাল্টা তৃণমূলের তরফে মোদীকে পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, “বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করা বন্ধ করুন। আপনার মিথ্যাচার প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। ২০২৪এর জন্য নিরাপদ আসন খুঁজে নিন। বারাণসীতে আপনি অত্যন্ত কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন।”

