শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, খেজুরি, ৩১ মে: আমফানের সময় ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ যথাযথ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কাছে পৌঁছয়নি। তৃণমূলের নেতা কর্মীরা মাঝপথেই তার সরিয়ে নিয়েছেন। এই অভিযোগে বার বার সরব হতে দেখা গেছে বিজেপিকে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও অল্প হলেও দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছেন। সেই কারণেই এবার দুয়ারে ত্রাণের কথা ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণ মাঝপথেই লুঠ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাই আজ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের যে খতিয়ান তারা সরকারকে জানাবেন তার যেনো উপযুক্ত প্রমাণ তারা নিজেদের কাছে রেখে দেন। না হলে পরে শুনতে হতে পারে, তারা সরকারকে কিছুই জানাননি।
সোমবার যসের তান্ডবের পর খেজুরী বিধানসভার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাথে ছিলেন খেজুরীর বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক। খেজুরি ২ নম্বর ব্লকের উপকূলবর্তী এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, অন্যবারের মতো যসের সময় রাজ্য সরকার সেভাবে এই এলাকার মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়নি ও উপযুক্ত পদক্ষেপ করেনি।
আমফান, ফনির সময় এই এলাকায় যেভাবে সরকার উদ্ধারকাজ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ করেছিল যসের পর সেরকমভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায়নি সরকার, বলে অভিযোগ রাজ্যে বিরোধী দলের।

খেজুরিতে পৌঁছে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগের সুরে বলেন, “যস আছড়ে পড়ার আগে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কেন্দ্র আগে ভাগেই ৪০৪ কোটি টাকা দিয়েছে। এরপর যসের তান্ডব শেষে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খন্ডকে ১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে মোদী সরকার। এছাড়াও আরো নানভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু সেই সমস্ত টাকা বা অনুদান মাঝপথেই থেকে যাবে আমফানের মতো।”
যসে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দ্যেশ্যে সতর্ক করে তিনি বলেন, “যারা প্রকৃতপক্ষেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের জন্য পঞ্চায়েতে এবং বিডিও অফিসে ড্রপবক্স খোলা হয়েছে। আপনারা সেই ড্রপবক্সে আপনাদের ক্ষতির কথা জানাবেন। পাশাপাশি বিডিও অফিস বা পঞ্চায়েত অফিস থেকে রিসিভ কপি অথবা মেল মারফত ডকুমেন্টস রাখবেন। নইলে পরে আবেদন করেননি বলে অস্বীকার করতে পারে।”

ছবি: ত্রাণ নিতে আসা অসহায় মানুষ।
খেজুরি এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি এলাকার সাধারন মানুষের হাতে কিছু বস্ত্র, ত্রিপল ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী দিনেও এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে তিনি ও তাঁর দল থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

