স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১১ নভেম্বর: রেস্তোরাঁ মানেই জিভে জল আনা খাবার। সে মিক্সড ফ্রায়েড রাইসই হোক কিংবা এগরোল। তবে বিরিয়ানি মানেই রাজকীয় আহার। রায়গঞ্জ শহরে দিনের বেলা যেমন তেমন, বিকেলের পর থেকে রেস্তোরাঁ গুলিতে ব্যাঙের ছাতার মত ক্রেতাদের ভিড়। স্বাদে গন্ধে ভুরিভোজে পটু ভোজনরসিক মানুষ। তবে সম্প্রতি বিরিয়ানিতে চিকেন কিংবা মাটনের পরিবর্তে ইঁদুর উদ্ধারে শোরগোল পড়ে যায় রায়গঞ্জ শহরে। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসল খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও পৌরসভা।
শুক্রবার দুই দফতরের প্রতিনিধিরা যুগ্মভাবে অভিযানে নামে রায়গঞ্জ শহরে। এদিন দুপুরে রায়গঞ্জ শহরের বিদ্রোহী মোড় ও টাউন ক্লাব লেনের একাধিক রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানো হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক চৈতালি কুমারি, পুর প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস, প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য সাধন বর্মন সহ পুরসভার জনস্বাস্থ্য ও ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের আধিকারিকরা। প্রতিটি রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকে কিচেন, স্টোরেজ, ফ্রিজ, জলের ব্যবস্থা সহ যাবতীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে সে বিষয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হয় কর্তৃপক্ষের কাছে। যাদের ফুড লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন রয়েছে তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি রান্না করা খাবারের গুণগত মান যাচাই করা হয়।

পরিদর্শন চলাকালীন এদিন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক চৈতালী কুমারি বলেন, এটি রুটিন মাফিক অভিযান৷ বেশকিছু রেস্তোরাঁয় বেহাল পরিকাঠামোর চিত্র দেখা গিয়েছে। কিচেন ও স্টোরেজের মান নিয়ে বেশ কিছু রেস্তোরাঁয় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আধিকারিক। সেই সব রেস্তোরাঁ গুলিকে নোটিশ দিয়েছেন তিনি। ফুড লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন কপি ডিসপ্লেতে প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুর প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, উৎসব অনুষ্ঠান কিংবা এমনি সময়েও রায়গঞ্জে রেস্তোরাঁগুলিতে ভিড় লেগেই থাকে। ন্যায্য পয়সা দিয়ে খাবার কেনে প্রত্যেকেই। তাই তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এদিনের অভিযান। একাধিক রেস্তোরাঁ থেকে এদিন অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। তাদের সতর্কীকরণ বার্তা দেওয়া হয়। কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুর প্রশাসক।

