আমাদের ভারত, ৫ সেপ্টেম্বর: যাত্রা শুরুর চার বছর বাদে উদ্বোধন হল ঝাড়গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নয়া ভবনের। সোমবার শিক্ষক দিবসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধু রামচাঁদ মুর্মুর নামাঙ্কিত এই প্রতিষ্ঠানের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে শিক্ষায় এ রাজ্যের কৌলিন্য এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারিত হবে এর কার্যক্রম।
এদিন অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক শিক্ষা দফতরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের দুই অফিসারকে (ডিআই) ‘শিক্ষারত্ন’ স্বীকৃতি দেন। সম্মাননা জানানো হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অমিয় কুমার পান্ডা ও স্থানীয় কিছু কলেজের অধ্যক্ষকে। আমন্ত্রিতদের মধ্যে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা-সহ জেলার কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
ঝাড়গ্রামের জিতুসোলে ২৭ একরের ওপর জমিতে তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চার তলা ভবন। তিন ভাগে বিভক্ত ভবনে মোট ঘর ১০৮টি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভলপমেন্ট অফিসার তথা ডিন অফ স্টুডেন্টস তপন কুমার জানা এ কথা জানিয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, “২০১৭ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পাশ হওয়ার পর ’১৮-র ৯ আগস্ট ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপাচার্য পদে নিয়োগ হয় ২০২১-এর ১৩ মে। এর পর পর্যায়ক্রমে প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে সরকারের নানা দফতরের অবসরপ্রাপ্তদের অস্থায়ী নিয়োগ দিয়ে গত বছর নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পঠনপাঠন। এতদিন প্রতিষ্ঠানের কাজ চলেছে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের মহিলা বিভাগের ভবনের চতুর্থ তল থেকে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড স্থানান্তরিত হয়েছে নয়া ভবনে।
প্রথমে ইংরেজি, গণিত, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম এবং সাঁওতালি— এই চার ভাষায় স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রম চালু হয় গত নভেম্বর মাসে। মোট আসন ১৭৫। প্রথম বর্ষে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার ফল এ মাসেই প্রকাশ হবে। ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে তৃতীয় সেমিস্টারের ক্লাশ।“
নয়া ভবনের জন্য রাজ্যের বরাদ্দ মোট ১২২ কোটি টাকার একাংশ দিয়ে মূল প্রশাসনিক ভবন ছাড়াও হয়েছে দোতলা অতিথিনিবাস। এর ৮টি কক্ষের মধ্যে ২টি ভিআইপি-দের জন্য সংরক্ষিত। প্রতি কক্ষে দুটি শয্যা। এ ছাড়াও পর্যায়ক্রমে হচ্ছে ছাত্রী আবাসন। তৈরি হবে পঠনপাঠনের জন্য আরও দুটি ভবন, পরীক্ষাগার, স্টেডিয়াম প্রভৃতি।

