আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৯ জানুয়ারি: হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া সকলের মৃতদেহ গাড়ির তেলের খরচের বিনিময়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার দাবি তুলে জলপাইগুড়ির জেলাশাসকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন স্ত্রীর দেহ কাঁধে তুলে নেওয়া স্বামী জয়কৃষ্ণ দেওয়ান। সোমবার জেলাশাসককের সঙ্গে দেখা করে এই দাবি পত্র তুলে দিলেন আশি ছুঁই ছুঁই ক্রান্তির বৃদ্ধ বাসিন্দা।

গত বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় জয়কৃষ্ণের স্ত্রী লক্ষ্মীরানী দেওয়ানের। রোগীকে ক্রান্তি এলাকা থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া নিয়েছিল নয়শো টাকা। মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া চাওয়া হয় তিন হাজার টাকা বলে অভিযোগ। বারোশো টাকা দিতে রাজিও হয় মৃতার পরিবার। কিন্তু রাজি হয়নি অ্যাম্বুল্যান্স চালকরা। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বহুতল থেকে স্ত্রী মৃতদেহ বের করে কাঁধে তুলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন জয়কৃষ্ণবাবু। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে সোচ্চার হয় সাধারণ মানুষ। রাজ্যস্তরে অভিযোগ পৌঁছয়। এরপরেই কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করে প্রশাসন।

এদিন জেলা শাসকের দফতরে দাঁড়িয়ে জয়কৃষ্ণবাবু বলেন, “আমি কারও প্ররোচনায় স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে তুলিনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই কাঁধে মৃতদেহ তুলে নিয়েছিলাম। সংবাদমাধ্যম ছবি তুলে ভালো করেছে, না হলে সাধারণ মানুষ এই বিষয়টা জানতে পারত না। আমি চাই মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি দেখুক। ওয়ার্ড মাস্টার আমাকে বলেছিল অ্যাম্বুল্যান্সের সরকারি কোনো ব্যবস্থা নেই। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা আমার কাছে তিন হাজার টাকা দাবি করেছিল। আমি অসহায় হয়েই স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম। দালাল চক্র বন্ধ হয়ে নিয়মের পরিবর্তন হওয়া উচিত।”
জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বলেন, “এরকম ঘটনা যেন আর না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে এই ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে অ্যাম্বুল্যান্সে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য কিলোমিটার অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হবে দ্রুত।”

