আমাদের ভারত, কল্যাণী, ১১ই জুলাই: ‘গাছপাঁঠা চাষ, হবে বারোমাস’। হ্যাঁ গাছপাঁঠা অর্থাৎ এঁচোড় বা কাঁঠাল এখন সারাবছর চাষ করা হচ্ছে এবং তা চাষ করে চাষিভাইরা অনেক মুনাফা করছেন। বাঙালির হেঁসেল তথা বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাড়িতেও বছরের সব-সময়ই ‘এঁচোড়-চিংড়ি’র সুস্বাদু পদ দেখতে পাওয়া যায়। বাণিজ্যিকভাবেও পাকা কাঁঠালের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই ‘ফার্মলোর’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের পক্ষ থেকে ‘বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কাঁঠাল চাষ’ বিষয়ক একটি ওয়েবিনার আয়োজন করা হয়। এই ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফটিক কুমার বাউরী।(Dr. Fatik Kumar Bauri, Horticulturist and Professor, ICAR-AICRP on Fruits, BCKV, Mohanpur.)
অধ্যাপক বাউরী জানান, কাঁঠাল চাষের প্রতি ধীরে ধীরে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আমাদের দেশে খাজা, রসা, দো-রসা – প্রকারের কাঁঠালই সাধারণত চাষ করা হয়।এছাড়া পালুর-১, পালুর-২, পেচিপেরাই, স্বর্ণ, ভেলিপারা, বালিয়ার, কঙ্কন প্রোলিফিক প্রভৃতি জাতের কাঁঠাল চাষ করা হয়ে থাকে। কাঁঠাল অধিক আর্দ্রতাযুক্ত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চাষ করা যায়। বর্তমানে প্রতি হেক্টরে ১০০ গাছ লাগানো যেতে পারে। এছাড়া ‘দ্বিবেড়া’ পদ্ধতিতে সর্বাধিক ২২২ টি গাছ হেক্টর প্রতি চাষ করা যেতে পারে বলে তিনি জানান।
কাঁঠাল গাছে ফল আসতে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগে।কাঁঠাল সবচেয়ে বড়ো ফলও বটে। তাই চাষিভাইরা চারাগাছ রোপণের পর তার মধ্যে ‘সাথীফসল’ হিসেবে কুমড়ো, শিম, বিন, ট্যামেটো, পেঁয়াজ, লংকা, শাক-সবজি চাষ করতে পারেন বলেও ড. বাউরী জানান।
কাঁঠাল থেকে লেদার, আচার, জ্যাম, রিন্ড জেলি, স্কোয়াশ, ওয়াইন, টফি, ক্যান্ডবাল্বস্, গোলাবজামুন, আইসক্রিম, কেক প্রভৃতি তৈরি হচ্ছে। এই সব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখেই আমাদের দেশে বিশেষ করে ত্রিপুরা, ওড়িশা, অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও কর্নাটক -এই পাঁচ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল চাষ হচ্ছে।
কাঁঠাল চাষের ভবিষ্যৎ কী? সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অধ্যাপক বাউরী জানান, “কাঁঠাল ভবিষ্যতের একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। কাঁঠাল চাষ করে অনেক টাকা আয় করা যেতে পারে। বিশেষ করে বারোমাসি কাঁঠালের চাষ বেশ লাভজনক এবং এর চাহিদা ভীষণ ভাবেই রয়েছে। এখন বিভিন্ন দেশেও কাঁঠাল রপ্তানি হচ্ছে।পাশাপাশি কাঁঠাল কাঠও বেশ ভালো মানের হয়। তাই সব দিক দিয়েই কাঁঠাল চাষ অত্যন্ত লাভজনক।”
এক সময় ‘কাঁঠালের আমসত্ব’ বলে ব্যঙ্গ করা হত। কিন্তু আজ কাঁঠালের ‘কাঁঠালসত্ব’ যেমন তৈরি হচ্ছে তেমনি কাঁঠালের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। ‘এইডস’ রোগাক্রান্ত রোগীদের কাঁঠালের বীজ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।পাকা কাঁঠাল খাদ্যগুণে পূর্ণ একটি ফল।

এদিনের ওয়েবিনারে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার মিশ্র ও ড. কল্যাণ চক্রবর্তীও বক্তব্য রাখেন। সঙ্গীত পরিবেশন করেন সংঘমিত্রা মিশ্র। সঞ্চালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শিক্ষক মিলন খামারিয়া।


অত্যন্ত সুন্দর কাঁঠাল সম্পর্কে একটি লেখা l