আমাদের ভারত, ২৫ আগস্ট: সময়ের অমোঘ নির্নয় বলছে নষ্ট্রাডামুসের ভবিষ্যৎবাণী কতখানি চুলচেরা বিচারের পরিনতি। নষ্ট্রাডামুস নির্দিষ্ট ভাবে ২০২১–কেই বিশ্বযুদ্ধের সূচনার সময় বলে বর্ণনা করেছিলেন। আজ থেকে ছয় মাস আগেও যা ছিল হেঁয়ালি মাত্র। আজ সেটাই বাস্তব।
ঘটনাকে কাকতালীয় বলা সম্ভব নয় কারন ‘তিন সমুদ্রের দেশ’, ‘বৃহস্পতিবারের পূজারি’, ‘ধর্মের নামে পাহাড়’ এই বাক্যগুলো ছিল নষ্ট্রাডামুসের নিজস্ব। আমি নিজেও বহুবার সোস্যাল মিডিয়ায় নষ্ট্রাডামুসের প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে এই শব্দগুলো উল্লেখ করেছি। আমার বন্ধুরা সেটা জানেন–ও। যে শব্দ ও বাক্যগুলো তিনি ২০২১ এর প্রেক্ষাপটে বারংবার উল্লেখ করেছিলেন আজ থেকে প্রায় ৪৫০ বছর আগে এবং অবশ্যই ভারত থেকে অনেক অনেক দূরে ফ্রান্সের এক শহরে বসে। সে সময়টা ছিল এমন একটা সময় যখন বিশ্বে এরোপ্লেন ছিল না, ছিল না ইন্টারনেট–ও। কাজেই ইন্টারনেট ঘেঁটে নষ্ট্রাডামুস গল্প ফেঁদেছিলেন, এমনটা–ও বলা সম্ভব কি?
তিনি বলেছিলেন এই যুদ্ধ হবে ঈশ্বর বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীদের মধ্যে। ভয়ানকতম সে যুদ্ধ। ধর্মের নামে পাহাড়ের এক ছোট স্ফুলিঙ্গ সারা বিশ্বকে দাবানলের আঁচের মতন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলবে। বিশ্ব দুই ভাগে বিভাজিত হবে। বিশ্বের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ভরবে। সমুদ্রে ভাসবে মৃতদেহ।
অনেকেরই ধারণা ধর্মের নামে পাহাড় এখানে সম্ভবতঃ হিন্দুকুশ পর্বত। আর কোনো ধর্মের নামে পাহাড় আছে কি?
নষ্ট্রাডামুস বলেছিলেন, জল-মাটি-আকাশ জুড়ে শুরু হবে এক দানবীয় যুদ্ধ। তবুও পদাতিকদেরই এই যুদ্ধে থাকবে প্রাধান্য। পদাতিক সৈন্যদের পায়ের শব্দে কাঁপবে ককেশাস ও আন্দিজ পর্বত। অস্ত্রের প্রয়োগে তুষার প্রদেশের নীরবতা ভেঙে খান খান হবে। দুর্জয় বেগে হাজারো হাজারো সেনা পর্বত অতিক্রম করবে। তিন সমুদ্রের দেশের সেনাও এসে মিলবে তাদের সাথে। (কোয়ার্টেনস্ – ২৯-৯৮,১০৩-০৫)
যার অর্থ রাশিয়া-আমেরিকার সাথে ভারতীয় সেনারাও যুদ্ধে যোগ দেবে। ককেশাস অর্থে রাশিয়া, আন্দিজ অর্থে আমেরিকা, তিন সমুদ্রের দেশ অর্থে ভারতকে বুঝিয়েছেন নষ্ট্রাডামুস।
নষ্ট্রাডামুস বলেছিলেন মূরেরা আরো একবার নিউ সিটিকে আক্রমণ করবে যা মিটে যাওয়া একটা পুরোনো ঝগড়াকে পুনর্বার জিইয়ে তুলবে। যার পরিণামে নিউ সিটি ছুঁড়বে রাসায়নিক গোলা যা মূরদের কাছে অশনি সংকেত ছাড়া আর কিছু নয়।
মৃত্যুভয় আক্রান্ত ভয়ংকর মূরেরা বাঁচার তাগিদে দলে দলে গাঙ্গেয় ভূমিতে প্রবেশ করবে। গাঙ্গেয় ভূমির মানুষের জীবন হয়ে উঠবে বিপন্ন। তবে পদাতিকদের আক্রমনে তারা গাঙ্গেয় ভূমি পরিত্যাগ করে পর্বতের পথ ধরে পলায়নে ব্যস্ত হবে। (কোয়ার্টেনস্ – ২২/৯৩,২২/৯৭,২৯-১০৭)
নষ্ট্রাডামুসের ভবিষ্যৎবাণীতে রিভার গ্যাঞ্জেস অববাহিকার উল্লেখ রয়েছে। যা মূরদের প্রবেশের কারনে অশান্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। রিভার গ্যাঞ্জেস অববাহিকাকে যদি গাঙ্গেয় উপত্যকা হিসেবে ধরা হয় তবে ভারতের চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। আর বরাবরই নষ্ট্রাডামুস আমেরিকাকে নিউ সিটি বলে বর্ণনা করেছেন যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আমেরিকা আরো একবার তালিবান জঙ্গিদের আক্রমনের শিকার হতে চলেছে। মূর অর্থে নষ্ট্রাডামুস বুঝিয়েছেন আতঙ্কবাদীদের।
তিন সমুদ্রের দেশ বলতে বোঝায় সেই দেশকে যেখানে তিনটি সমুদ্র এসে মিশেছে। এমন দেশ পৃথিবীতে মাত্র একটিই। সেটি হল ভারত মহাসাগর – বঙ্গোপসাগর-আরব সাগর দিয়ে ঘেরা দেশ ভারতবর্ষ। তিন সমুদ্র আর কোনও দেশকে ঘিরে নেই। আরও একটি কথা নষ্ট্রাডামুস বলেছিলেন। সেটা হচ্ছে বৃহস্পতিবারের পূজারি। পৃথিবীতে একমাত্র হিন্দুরাই বৃহস্পতিবারের পূজারি। বৃহস্পতিবারকে তারা দেবী লক্ষ্মীর দিন বলে মানেন। বাড়িতে লক্ষ্মী পুজো করেন। পারসীদের সোমবার, মুসলিমদের শুক্রবার, ক্রিশ্চিয়ানদের জন্য রবিবার পবিত্র। এখানেও একটা ক্লিয়ার প্রেডিকসন পাওয়া যায় যে নষ্ট্রাডামুস হিন্দুদের সমন্ধেই বলেছেন।
তিন সমুদ্রের সে দেশ যেথা
মানুষ বৃহস্পতিবারের পুজারি
ধর্মের বাঁধনে তারা সৌম্য নম্র নত
মহান সে দেশ যাকে রোখা মূর্খের বিলাস……
(কোয়ার্টেন – ২৯-৪৩)
নিশ্চিত ভাবেই এই কোয়ার্টেন ভারতবর্ষকে উদ্দেশ্য করেই। যার অর্থ প্রভূত প্রতিবেশী এবং ঈর্ষান্বিত দেশ ভারতবর্ষকে প্রতিপক্ষে রেখে চক্রান্তে লিপ্ত হবে। কিন্তু নষ্ট্রাডামুস বলছেন, যে দেশের ধর্ম পবিত্র। অন্যের ধর্মের প্রতি কুচক্রে লিপ্ত নয়। যে মানুষেরা ধর্মের পথে চলে অন্যের প্রতি ব্যবহারে সৌম্য, নম্র, নত সেই দেশকে ঠেকিয়ে রাখা সাধ্যের বাইরে।
নষ্ট্রাডামুসের ভবিষ্যৎবাণী বলছে যে যুদ্ধ এতটাই ভয়াবহ হবার সম্ভাবনা যে মধ্যপ্রাচ্যের তৈলকূপগুলি পর্যন্ত একটার পর একটা রাসায়নিক নিক্ষেপে জ্বলে উঠতে পারে। যেগুলি অনন্তকাল ধরে জ্বলবে। আর সেই উত্তাপে মধ্যপ্রাচ্যের এক বিশাল অংশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে। মানুষ মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর দিকে ছুটবে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে। পৃথিবীর বাতাস ভারী হবে। 🌊 সমুদ্রের জলের উচ্চতা বাড়বে যাতে মহাদেশের বহু অংশ জলের তলায় চলে যাবে। জনসংখ্যার বাহুল্য অভাবনীয় ভাবে কমবে।
বিশ্বযুদ্ধের সীমাও নির্নয় করে গেছেন নষ্ট্রাডামুস। পরিণতির দিন তিনি নির্ধারিত করেছেন ২০২৬-২৭। বাস্তবে এটাই সত্য যে নিয়তি অলঙ্ঘনীয়। যেটা ঘটবার তা ঘটবেই। ঘন অন্ধকারের আকাশ না পেরোলে ভোরের আকাশ দেখা যাবে কি ভাবে?
ঘটনা এবং পরিণতি উভয়ই থাকবে আমাদের সামনে। আমরা দর্শক মাত্র। একজন জাতীয়তাবাদী হিসাবে অবশ্যই কামনা করব এই মহাযুদ্ধের শেষে ভারত মহা শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে জেগে উঠুক। সেক্যুলার ও লিব্যারাল সেজে সংখ্যালঘুর তোষামদের নেউটাপনা আর জাতীয়তাবাদের বিরোধীতার বদ অভ্যাসগুলো ঘুঁচে যাক।

( রাজা দেবনাথের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত)

