বিষ্ণু শর্মা
আমাদের ভারত, ২৮ মে: বাংলার বিজেপির কোনো ভবিষ্যৎ আপাতত নাই। এখন এভাবেই চলবে। তারপর আজ থেকে কুড়ি-পঁচিশ বছর পর বাঙলা থেকে কোনো নেতা উঠে আসবে যে বাঙালী, বাংলা ভাষা, বাঙালী সমাজ এবং সর্বোপরি বাঙালী হিন্দুদের অধিকারের জন্য লড়াই করবে। তবে, সেই নেতাকে বিজেপি ছাড়তে হবে। যেভাবে মমতা ব্যানার্জিকে ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল দল বানিয়ে লড়াই করে উঠতে হয়েছিল। সেদিন আমরা অনেকেই থাকব না।
টিএমসি থেকে একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের নিয়ে এসে এবারের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কে সাফল্যের সঙ্গেই রুখে দিতে পেরেছে বিজেপিরই লোকজন। এতে আরএসএসের কেউ যুক্ত কিনা, টাকার লেনদেন হয়েছে কিনা বা কোনো ষড়যন্ত্র হয়েছে কিনা তা আজ ভেবে লাভ নাই; এসবই এখন অতীত। কিন্তু বাঙালী হিন্দুদের স্বপ্নভগ্ন হয়েছে তা’তে কোনো সন্দেহ নাই।
আচ্ছা, সংঘের বিভিন্ন সংগঠন কি বাঙালী বিরোধী? সংঘের বাঙালী নেতাদের কি কোনো voice আছে? তাঁরা তো দেখি সর্বভারতীয় নেতাদের খুশি করতেই ব্যস্ত। বাংলায় তো সেভাবেই নেতা তৈরী করা হয়। বিদ্যার্থী পরিষদ’কে দেখুন। সভাপতি, সম্পাদক বাঙালী ঠিকই; কিন্তু সংগঠনের নীতি নির্ধারণে তাঁদের কোনো ভূমিকা নাই। রাজ্য সংগঠন সম্পাদক, ক্ষেত্রীয় সংগঠন সম্পাদকদ্বয় যাঁরা মুলত বাংলার কাজ দেখেন তাঁরা, এমন কি উত্তরবঙ্গের সংগঠন সম্পাদক — সকলেই বাইরের রাজ্য থেকে এসেছেন।
বিজেপিতেও তাই। নীতি নির্ধারণে বাঙালী নেতাদের কোনো ভূমিকা নাই। অন্য বিবিধ সংগঠনেও একই পরিস্থিতি। সেখানেও সেই বাঙালী নেতাদেরকেই দেখা যায় যাঁরা handpicked — অবাঙালী নেতাদের দ্বারা পরিচালিত। সংগঠনে এই বাঙালি নেতারা জোহুজুরের ভূমিকা পালন করেন। একটু ব্যাতিক্রমী হলেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই কারণে রাজ্যের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিদ্যুৎ মুখার্জি এবং সুব্রত চ্যাটার্জি’কে। (এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। অতীতে কালিদাস বসু ও সুজিত ধরকে পর্যন্ত এক ঘরে করে রাখা হয়েছিল।) অথচ, যে দ্রুততার সঙ্গে বিদ্যুৎবাবু বা সুব্রতবাবুকে সরিয়ে দিয়েছিল কোই সেই দ্রুততার সঙ্গে তো এখন ব্যবস্থা নিতে পারছে না? কিছু বলে দেখুন, ওমনি ভাষণটা শুরু হবে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা থেকে। তারপর তিন তালাক হয়ে ধীরে ধীরে রামমন্দিরে এসে শেষ হবে। Achievements! এরপর মুসলিম জুজু দেখাবে। সাম্প্রদায়িকতার কথা তুলবে যেন ইউপি, বিহার বা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলমান সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে; ওই সব রাজ্য ‘সোনার’ রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু, বাঙালীদের জন্য, বাঙালী হিন্দুদের জন্য কি করেছে? হ্যাঁ, উপহারস্বরূপ বাগাইয়াবাবু, সুনীলবাবু, রমাবাবু বা অদ্বৈতবাবুদের দিয়েছে যাঁরা বাংলায় কাজের দফারফা করে দিয়েছেন। এদের অবিমৃশ্যকারিতার কারণে আজ ক্ষেত্রীয় প্রচারক যোশী সাহেব এত ক্ষমতাশালী! এদের জন্যই আজ বিজেপি বিক্রি হয়ে গেছে। মুকুলবাবু, শুভেন্দুবাবুদের হাতে বিজেপি মমতার জন্য নিরাপদ। অতএব বাঙালী হিন্দু, আপনারা আরও বিশ ত্রিশ বছর লড়াই এর জন্য তৈরী হন।
বাঙলার ভবিষ্যত এখন আম প্রবাসীদের হাতে। এরা যেদিন আওয়াজ তুলতে পারবে সেই দিন বাঙালীর অবস্থা পাল্টাবে। তার আগে পর্যন্ত স্বাধীন ভারতে একমাত্র পরাধীন জাতি হিসাবে বাঙালী থাকবে।
(এটা আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদন নয়, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সংগৃহীত। আমরা এর সত্যতা যাচাই করিনি।)

