আমাদের ভারত, ১৩ মার্চ: এর মধ্যে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে অক্সফোর্ডে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আর তারপরেই নড়েচড়ে বসেছে ভারত সরকারও। টিকা দেওয়ার পর তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখবে এবার ভারত। আগামী সপ্তাহ থেকেই সেই কাজ শুরু হবে বলে শনিবার জানিয়েছেন কোভিড-১৯ নিয়ে গঠিত জাতীয় টাস্ক ফোর্সের এক সদস্য।
তবে পর্যালোচনায় কাজ শুরুর কথা বললেও টাস্কফোর্সের সদস্য এন কে আরোরা বলেছেন, এই মুহূর্তে ঐ টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও বিশেষ চিন্তার কারণ নেই। কারণ টিকাকরণের পর ভারতে অতি নগন্য সংখ্যকের মধ্যেই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাই এখনই কোন চিন্তার কারন নেই।
যদিও তিনি জানিয়েছেন যেকটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া কেস পাওয়া গেছে তা নিশ্চিত ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই তার একটি রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। তাতে রক্ত জমাট বাঁধার মতো কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডেনমার্ক, নরওয়ে, আইসল্যান্ড সহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে অক্সফোর্ডের টিকা নেওয়ার পর রক্ত জমাট বাঁধার মতো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এশীয় অঞ্চলে থাইল্যান্ডেও এই ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটনা সামনে এসেছে। ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড এবং থাইল্যান্ড সরকার ইতিমধ্যেই টিকা প্রয়োগে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ভারতে অক্সফোর্ডের টিকা নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া প্রায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এন কে অরোরা দাবি করেছেন শুক্রবার পর্যন্ত যে কটি মৃত্যুর ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, সেগুলির সঙ্গে টিকা নেওয়ার সম্পর্ক নেই। সেগুলি সবই সমাপতন।
টিকাকরণের পর যে কটি ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে সেই সব রিপোর্টের খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তার কথায় সমস্ত ঘটনার তদন্ত করার পর তার ফলাফলের রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হবে।
মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৬ জানুয়ারি দেশজুড়ে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এখনো পর্যন্ত পৌনে তিন কোটির বেশি মানুষকে এদেশে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে টিকাকরণের মাঝেই ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল এবং ভারতে নতুন করোনার স্ট্রেনের সংক্রমন আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

