Artificial sun, India, ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে ভারত, দেশে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সূর্য

আমাদের ভারত, ১৪ সেপ্টেম্বর: কৃত্রিম সূর্য তৈরি হচ্ছে ভারতে। শুনে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। আগামী দিনে এই কৃত্রিম সূর্য’ই হয়তো অন্ধকার মেটাবে ভারত সহ অন্যান্য দেশের। গুজরাটের গবেষণাগারে প্রকৃতির অন্যতম শক্তিশালী এক প্রক্রিয়াকে কৃত্রিমভাবে তৈরির কাজ চলছে। লক্ষ্য নক্ষত্রের শক্তিকে পৃথিবীতে বসেই বন্দি করা।

ভারতের কৃত্রিম সূর্য তৈরির স্বপ্ন আরো একধাপ এগিয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর প্লাজমা রিসার্চের এস এস টি-১ টোকামাক যন্ত্রটি সফলভাবে বসানো হলো। এটি একটি শক্তিশালী জাইরোট্রন, যার ক্ষমতা ৮২.৬ গিগাহার্জ এবং ৪০০ কিলোওয়াট। এটি ভারতের পরীক্ষা মূলক ফিউশন যন্ত্র। সাধারণত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি তৈরি এর লক্ষ্য নয়। চরম তাপ ও চাপে হালকা পরমাণু নিউক্লিয়াসকে জুড়ে দিয়ে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে বলে ফিউশন। যে প্রক্রিয়ায় সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র আলো বিকিরণ করে। এই পুরো পরীক্ষার একদম কেন্দ্রে রয়েছে প্লাজমা। এটি পদার্থের এক অত্যন্ত উত্তপ্ত অবৈদ্যুতিক আঁধার যুক্ত অবস্থা। বিজ্ঞানীদের মূল কাজ এই প্লাজমাকে অভাবনীয় তাপমাত্রায় গরম করা। তারপর ডোনাট আকৃতির টোকামাকের ভেতরে শক্তিশালী চুম্বকীয় ক্ষেত্রে সাহায্যে তাকে বন্দি রাখা।

ভারতীয় ফিউশন পরীক্ষায় প্লাজমার তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই কুড়ি কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এর উত্তর সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা আছে প্রায় কুড়ি গুন বেশি। তবে কেবল তাপমাত্রা বাড়ানোই শেষ কথা নয়। আসল ট্যালেন্ট চরম উত্তপ্ত প্লাজমাকে দীর্ঘক্ষণ স্থিতিশীল ও ধরে রাখা। সামান্য অস্থিরতাতেও ফিউশনের জন্য প্রয়োজনীয় সুক্ষ্ম পরিবেশ নষ্ট করে দিতে না পারে যাতে। আর এখানেই কাজে আসবে নতুন জাইরোট্রন। এটি একটি শক্তিশালী যন্ত্র। উচ্চ কম্পাঙ্কের মাইক্রোওয়েভ শক্তি উৎপন্ন করে নতুন সিস্টেমটি শক্তি ঢুকিয়ে দেয়। এস এস টি- ১ প্লাজমাতে। ফলে প্লাজমা চরম তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ স্থিতিশীল থাকে। সূর্য তার নিজস্ব বিপুল মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দিয়ে প্লাজমাকে ধরে রাখে। কিন্তু পৃথিবীর তো সূই উপায় নেই। তাই বিজ্ঞানীদের ভরসা এই জটিল চুম্বকীয় ব্যবস্থার ওপর। তবে একটি বিষয় দেখতে হবে কোনভাবেই রিয়াক্টারের দেওয়ালে স্পর্শ না করে।

বিজ্ঞানের দুনিয়ায় ফিউশনকে বলা হয় পরিচ্ছন্ন শক্তির চূড়ান্ত স্বপ্ন। সাধারণ পারমানবিক ফিউশন- এর তুলনায় এর তেজস্ক্রিয় বর্জ্য অনেক কম। তবে এর অর্থ এই নয় কাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। ভারতের কৃত্রিম সূর্য এখনো পর্যন্ত বিদ্যুৎ তৈরি করছে না কিন্তু চরম উত্তপ্ত প্লাজমাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখার ক্ষমতা ভবিষ্যতের জন্য এক বড় মাইলফলক। রেকর্ড তাপমাত্রা তৈরি এবং তাকে নিয়ন্ত্রণের মাঝে এটাই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অদূর ভবিষ্যতে নক্ষত্রের এই শক্তি হয়তো গোটা পৃথিবীর অন্ধকার মেটাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *