কেরলের নরবলি কান্ডে উঠে এলো মারাত্মক তথ্য, মৃতদের মাংসও নাকি খেয়েছিল অভিযুক্ত দম্পতি

আমাদের ভারত, ১৩ অক্টোবর:
কেরলের নরবলি কান্ড তদন্তে আরোও এক মারাত্মক বিষয় সামনে এসেছে। একের পর এক বীভৎস ও চমকে দেওয়ার মতো তথ্য জানা যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দম্পতি শুধু দুই মহিলাকে নরবলি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। তারা নরবলি দিয়ে তাদের মাংস রক্ত খেয়েছে।

কেরলের এর্নাকুলামের বাসিন্দা দুই তরুণী রোজালিন ও পদ্মাকে বেশ কয়েক মাস ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা রাস্তার ধারে স্টল দিয়ে লটারির টিকিট বিক্রি করতেন। গত জুন মাসে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান রোজালিন। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ হন পদ্মা। তাদের খোঁজে তল্লাশি করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, ওই দুই মহিলাকে বলি দেওয়া হয়েছে। রাতারাতি বড়লোক হতে ওই দু’জনকে বলি দিয়েছেন এক দম্পতি। এমনকি তারপর তাদের মাংস খেয়েছে তারা।

কোচি সিটি পুলিশের কমিশনার জানিয়েছেন, তারা গোটা বিষয়টি সন্দেহ করছে এখনও যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। সব রকম প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত তাদের ধারণা অভিযুক্তরা সাইকোপ্যাথ। বিকৃত যৌন কাম থেকেই মূলত এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রথমে দুই মহিলার গলা কেটে খুন করে ওই দম্পতি। তারপর তাদের দেহ একেবারে টুকরো টুকরো করে কেটে বস্তাবন্দি করে, দুটি আলাদা আলাদা জায়গায় পুঁতে দেওয়া হয়। ৫৬ টুকরো করে কাটা হয়েছে দেহ দুটি। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত দম্পতির নাম ভগবন্ত সিং এবং লায়লা। এদের একটি ম্যাসাজ পার্লার রয়েছে।

পুলিশের কাছে জেরায় তারা খুনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে। এমনকি তারা জানিয়েছে, তারা নরবলি দিলে তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়বে তারা বড়লোক হবে এই বিশ্বাস থেকেই তারা এই কাজ করেছে। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি তারা ওই দুই মহিলার মাংস খেয়েছে। সেই কথাও তারা স্বীকার করেছে।

রশিদ ওরফে মহম্মদ শাফি বলে এক ব্যক্তির নামও পুলিশের কাছে উঠে এসেছে। শোনা যাচ্ছে ওই ব্যক্তি নাকি ওই দম্পতিকে নরবলি দেওয়ার কথা বলেছিল। এমনকি দুই মহিলাকে জোগাড় করে ওই শফি। দুই মহিলাকে দম্পতির বাড়িতে নিয়ে আসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল শফি। তাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *