শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল ময়ূরেশ্বরের বিজেপির বুথ সভাপতি জাকির হোসেনের

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৬ মে: শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল বিজেপির বুথ সভাপতি শেখ জাকির হোসেনের (৮০)। তাঁর বাড়ি মল্লারপুর থানার কোটগ্রামে। এবার ময়ূরেশ্বর বিধানসভায় বিজেপির হয়ে ভোট প্রচার করেছিলেন তিনি। রবিবার ভোরের দিকে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অশান্তি এড়াতে গ্রামে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এক সময় কংগ্রেসের বীরভূম জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন জাকির হোসেন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে কলকাতায় গিয়ে মমতার দলে যোগদান করেন তিনি। তৃণমূল গঠনের পর তিনি দলের ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের সভাপতি ছিলেন। ২০১২ সালে অনুব্রত মণ্ডল জেলা সভাপতি হওয়ার পর তাঁকে সরিয়ে দিয়ে অভিজিৎ রায়কে ব্লক সভাপতি করা হয়। সেই থেকে দলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। তবে তাঁর ছেলে নাসিরুদ্দিন শেখ তৃণমূলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। পর পর দুবার ছেলে নাসিরুদ্দিন এবং বউমা প্রধান ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ২০১৮ সালে আর তৃণমূল টিকিট দেয়নি। তারপর থেকেই ওই পরিবার বিজেপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছিল। এবার বিধানসভা নির্বাচনে জাকির হোসেন বিজেপির হয়ে ভোট করেছিল। সেই থেকেই গ্রামের তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিষ নজরে ছিল পরিবার। বেশি আক্রোশ ছিল ছেলে নাসিরুদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে। ভোটের পর জাকির হোসেনের কামড়াঘাটের বাড়িতে ভাঙ্গর চালায় দুষ্কৃতীরা। এবার ছেলেকে না পেয়ে ৮ মে বাবা জাকির হোসেনকে মেরে হাত পা ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ওইদিনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার সময় ডানকুনি টোলপ্লাজার কাছে তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের দাবি, ভোটের ফল বের হওয়ার পর থেকে গ্রামছাড়া ছেলে নাসিরুদ্দিন। ফলে জাকির হোসেনকে হুমকি দিয়ে আসছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। মৃত্যুর আশঙ্কা করে দলের জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন জাকির হোসেন। মল্লারপুর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে এফ আই আর নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। সেই আশঙ্কাই বাস্তব হল। রবিবার ভোরে জাকির হোসেনকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কলকাতা ঢোকার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি অর্জুন সাহার অভিযোগ, “পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জন্যই জাকির হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। বাড়িতে হামলার সময় পুলিশ অভিযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল দলীয় কর্মীকে মরতে হত না। পুলিশ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের অপরাধ সংগঠিত করতে মদত দিয়েছে। আমরা ঘটনার পুর্নাঙ্গ তদন্তের দাবি করছি।”

তৃণমূলের জেলা পরিষদের কো-মেন্টর ধীরেন্দ্র মোহন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। সব মৃত্যুই বেদনাদায়ক। মৃত্যুর আগে জাকির হোসেন যাদের নাম করেছে তারা দলের কেউ নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *